Connect with us

কবিতা

আমিনুল ইসলাম-এর গুচ্ছ কবিতা

Published

on

আমিনুল ইসলাম-এর গুচ্ছ কবিতা

আবহসংগীত

অনিকেত আশঙ্কায় বিভ্রান্ত হলে
সূর্যের চোখে ধুলো দিয়ে
শীত-উপমিত মতো ভয় এসে
একদিন বাসা বাঁধে
আকাশ ফেলে আসা ডানায়।
তাই বলে সোনার শেকল?
ভেবেছিলে–এ বাঁধন আহা!
অথচ তুমি নিজেই আজ শ্রাবণের বোন হয়ে গেছো !
সোনার হৃদয় সোনারই তো বটে;
কিন্তু কি পার্থক্য তার
লৌহ-হৃদয়ের সাথে?
চোখের জলে সেও তো গলে না এতটুকু !
বিরোধীদলের ঠোঁট নিয়ে
তাকে আজ দোষও দেয়া যায়;
কিন্তু কি আর ফায়দা হবে বলো-
একগুচ্ছ অপচয় ছাড়া?
ব্যর্থতার রঙ দেখে মনে হয়–
কেন্দ্র ছুঁয়ে ছিলে নাকো তুমি;
জিলাপির প্যাঁচে ছিলাম আমিও।
আমাদের মাঝখানে নদী নেই
আছে ধু ধু প্রান্তর
দূরগামী ডানা
কান পাতো আর নাই পাতো—
সে ডানায় স্তনিত বটতলায় বেজে ওঠা সেদিনের সুর।

 

কালোরাতের গান

সন্ধ্যা পতনের শব্দে নীরবতা নেমে আসে গাছে…
প্রান্তরের মাঝখানে অশথের গোড়া ঘিরে বুনো-
মহিষের মতো জড়ো হয়ে আসে অন্ধকার। দূরে…
আঁধার তরলে শরীর ডুবিয়ে দেয় রৌদ্রদগ্ধ দিন,
চুল তার ভাসে জলে– যেন কোনো কুলবধূ
কাজলদিঘিতে তার পরাণ জুড়ায়! কিছুকাল গেলে
পড়ে যায় পেঁচাকাল; দুএকটি ঢোড়া সাপ জল
ছেড়ে উঠে আসে পাড়ে–বালু ভেঙে খুঁজে ফেরে
হট্টিটির ডিম। আসমানী কিচেনের শব্দ টুং টাং
কুটিল বাতাসে ভাসে– নক্ষত্রের কানে ঘোর
বিস্ময় জাগায়। সুরুয়ার গন্ধে মনে হয়ে– কাল
পৃথিবীর ঘরে অধিকাংশ পাতে যাবে দুঃখ-কষ্ট
যন্ত্রণার ডিশ! রাত বাড়ে, চোখ চায় স্বপ্নহীন ঘুম;
কিন্তু হায়! জানালার পর্দা ছুঁয়ে শ্বাস ফেলে
চলে যায় শ্মশানের হাওয়া! ঘুম নয়, জাগরণও
নয়; এ যেন নোম্যান্স ল্যান্ড—প্রাণ বেঁধে টনাটানি!
বুলবুলের গান নয়, কবেকার ভাঙনের রুদ্র
উচ্চারণ স্তব্ধতার পিঠে চড়ে উঠে আসে কাছে
যেন দূর অতীতের কালো অশ্বারোহী! বেজে ওঠে
চৈত্ররাতে শঙ্কিত শিহর ছুঁয়ে শ্রাবণের সুর;
দুকানে আঙুল যায়–বন্ধ হয় চোখ; তুমি আসো
চোরাপথে, ভাঙামনে ইচ্ছেমতো করো ভাংচুর।

 

নদী — তিন

দিঘি বললে মারমুখি হয়ে ছুটে আসবে না-
বাংলা একাডেমি
তথাপি একথাও সত্য যে বৈকালী-
বাতাসের ছোঁয়ায় সে স্রোত হয়ে ওঠে;
এবং নিবিড় ঢেউয়ের চুমোয় রাঙিয়ে-
তোলে পাড় !
আর দুগ্ধদুপুরের শরীরটা শীতল জলের
পালকে মুছিয়ে দিতে
কুসুম্বা দিঘির সহোদরা।
ফলে কোথাও জ্যৈষ্ঠের মাঠ ছিল–
স্বপ্নের জোত হাতড়েও এমনটি চোখে পড়েনি;
অথচ ওই স্রোতের আঁচল বাড়িয়ে
পা ছুঁয়ে দিতে জলজ অস্তিত্বের আঙিনায়
শ্রাবণ– যমুনার তৃষ্ণা জেগে উঠেছে;
এখন সন্ধ্যার জলে নামলেই
মাছেরা ঠোকর দিয়ে উস্কে দেয় পৌরুষ;
স্বীকার্য যে অন্তর–বাহিরে সাঁতারের
পোশাক দেখে আমি নিজেও অভিভূত;
অথচ তুমি নিজেই এখন—
ভাটির কুমির এনে মাঝ নদীতে পাহারা বসিয়েছো!

সোনাভান

যদি তুমি পুঁথিকারের কল্পনা না হয়ে থাকো কেবলই
তবে প্রভাতের চোখ তুলে একবার চেয়ে দেখো সোনাভান
তোমাকে নিশানা করে ছুটে আসে অশ্বারোহী–
হতে পারে নাম তার– অর্জুন কিংবা হানিফা অথবা নেপোলিয়ন
যতটুকু জেনেছি– সে পাল্টিয়ে নিয়েছে নিজনাম
যেমন পাল্টিয়ে নিয়েছে তার হাতের অস্ত্র
আর এখন তার সেনাদলে বণিকের ছেলেরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ।
সোনাভান, আমি কিন্তু ফেলে আসা অন্ধকারের কথা ভাবছি না
দ্যাখো–আমার দুচোখ স¤প্রসারিত হেডলাইট
সে-আলোয় উদ্ভাসিত চোখ-ধাঁধানো এক খোলাবাজার-
রঙিন! রঙিন! এবং রঙিন! আর রঙিন সে-বাজারেই
তোমাকে নিয়ে যেতে চায় অশ্বারোহী।
প্রস্তুত তার মঞ্চ–প্রস্তুত গ্রীনরুম
দ্যাখো– বিলবোর্ডে থেকে থেকে হেসে ওঠে
তোমারই এক তন্বী সহপাঠিনীর টপলেস ছবি!
সোনাভান– ইন্টারনাল অডিটের চোখে একবার-
অন্ততঃ একবার নিজের আয়নায় নিজেকে নিয়ে দেখো
এভাবে আর কতদিন তুমি অন্যের দিন যাপন করবে?
এভাবে আর কতদিন তুমি যাপন করবে অন্যের রাত?
ইতিহাস অথবি কিংবদন্তী, পুঁথি অথবা পুরাণ- যা-ই হোক
আমাদের বিশ্বাসের পায়ে ভর দিয়ে
তুমি কঠিন সত্যে ফিরে এসো টুঙ্গি শহরের সোনাভান
ক্যাটওয়াকের বিড়ালিনী নয়, বলনৃত্যের শংসিত পুতুল নয়
তোমার পদাঘাতে কেঁপে ওঠুক মতলববাজের রঙিন মঞ্চ।
সোনাভান, তুমি কেন আর শুধুই অন্যের ব্রতের সহায় হয়ে থাকবে?
এবার ঠিক করে নাও তোমার নিজের ব্রত, নিজের গন্তব্য
সিদ্ধান্ত এই হোক–আর নয় তোমার নামের শেষে অন্যের নামের
উপনিবেশ; এবং কারো আর অর্ধাংশ হয়ে থাকাও নয় তোমার।
ব্যায়ামাগার থেকে উঠে এসো
খেলার মাঠ হতে উঠে এসো
ফসলের ক্ষেত থেকে উঠে এসো
প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থেকে এসো
ইতিহাসের স্কুল থেকে পাঠ নিয়ে বেরিয়ে এসো
দৃপ্তনয়না বলিষ্ঠবাহু সোনাভান
তোমার চোখে চেয়ে–তোমার বাহু দেখে
গুহায় ফিরে যাক–
বিজ্ঞাপনে হেসে ওঠা অভিচারতন্ত্রের রঙিন সেকুয়েল।

 


সাহিত্য বিষয়ক লেখা পাঠাতে : [email protected] এই ইমেই ঠিকানা ব্যবহার করুন। ধন্যবাদ

Leave a comment

Advertisement Rupalialo Ads
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement
Advertisement

বিনোদনের সর্বশেষ খবর

টেলিভিশন8 hours ago

নতুন ধারাবাহিকে কল্যাণ কোরাইয়া

নির্মাতা সুমন আনোয়ারের নতুন ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন সুঅভিনেতা কল্যাণ কোরাইয়া। বৈচিত্র্যময় চরিত্র রূপায়নের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে দর্শকের আসনে পাকাপোক্ত...

টেলিভিশন9 hours ago

তানভীর মাসুদের ‘আয়না আদল’

নূরুল আলম তৌফিক এর রচনায় ও প্রীতম দ্বীপের পরিচালনায় নির্মিত হয়েছে ‘আয়না আদল’ নামক একটি খণ্ড নাটক। এ সপ্তাহে নাটকটির...

মিউজিক ভিডিও দ্বিধা দন্দ মডেল : জায়েদ খান এবং সাইমা রুশা মিউজিক ভিডিও দ্বিধা দন্দ মডেল : জায়েদ খান এবং সাইমা রুশা
সঙ্গীত7 days ago

মুক্তি পেল জায়েদ খানের নতুন মিউজিক ভিডিও দ্বিধা দন্দ ( ভিডিও সহ )

মুক্তি পেল জায়েদ খানের নতুন মিউজিক ভিডিও দ্বিধা দন্দ সঙ্গীত মিউজিকের ব্যনারে ।সিলেটের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী জায়েদ খান পেশায় ডাক্তার...

পূর্ণ ব্যান্ড নিয়ে আসছেন তামান্না জেসমিন পূর্ণ ব্যান্ড নিয়ে আসছেন তামান্না জেসমিন
সঙ্গীত2 weeks ago

`পূর্ণ’ ব্যান্ড নিয়ে আসছেন তামান্না জেসমিন

`পূর্ণ’ ব্যান্ড নিয়ে আসছেন তামান্না জেসমিন শুদ্ধ সঙ্গীতের শূন্যতা যাদের মনে পীড়া দেয় তাদের কাছে এক ধরনের পূর্ণতা নিয়ে আসছেন...

গ্লিটজ2 weeks ago

নতুন দুটি শর্ট ফিল্ম

আল আমিন এইচ রুবেল অভিনয় শিল্পী হিসেবে বিশেষ পরিরচিত। অভিনয় করেছেন মাহফুজ আহমেদ , আপন রানা , নাসিম সাহনিকসহ বেশকিছু...

অভিনয় পাগল তসলিম হাসান হৃদয় অভিনয় পাগল তসলিম হাসান হৃদয়
ফিচার3 weeks ago

অভিনয় পাগল তসলিম হাসান হৃদয়

অভিনয় পাগল তসলিম হাসান হৃদয় এস কে দোয়েল অভিনয় তার নেশা-পেশা। হাসাইতে হাসাইতে হার্টবিট বাড়িয়ে দেয় দর্শকদের। কাজ করেন চট্টগ্রামে...

tamanna-bhatia-bahubali. tamanna-bhatia-bahubali.
বলিউড4 weeks ago

তৈরি হচ্ছেন তামান্না

চরিত্রের চাহিদা মেটাতে নিজেকে নানান ভাবে ভাঙ্গেন গড়েন তারকারা। তবে নিজেকে প্রস্তুত করতে এবার সুদুর ফ্রান্সে পাড়ি জমিয়েছেন দক্ষিণের সুন্দরী...

শ্রাবণী পুষ্প। ছবি : সংগৃহীত শ্রাবণী পুষ্প। ছবি : সংগৃহীত
সঙ্গীত4 weeks ago

পুষ্পর সোনা জাদুরে

সময়ের অন্যতম মডেল-অভিনেত্রী শ্রাবণী পুষ্প। সম্প্রতি কাজ করেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সন্দীপনের গাওয়া ‘সোনা জাদুরে’ শিরোনামের একটি গানের মিউজিক ভিডিওতে। এই...

Advertisement

সর্বাধিক পঠিত