Connect with us

গল্প

ছবিঘর || নূর কামরুন নাহার

Published

on

ছবিঘর || নূর কামরুন নাহার

মেয়েটা দুই নম্বর। তবে একেবারে ঢিলা হয়ে যায়নি।

মেয়ে মানুষের চোখ দেখলেই বোঝা যায় ক’নম্বর। অবশ্য শরীর দেখেও বোঝা যায়। ওই সুমনা নাকি লুবনা ওটার চোখ দেখেই রাহাত বোঝে ওটা দু’নম্বর ।

রাহাত এক নম্বর লোক। অফিসে তার সুনামও সেরকমই। সে গম্ভীর। ব্যক্তিত্ব সচেতন। অফিসের কার্ক শ্রেণির সাথে হাসাহাসি,পিতলা খাতির করা পছন্দ করে না। ইউনিয়নের নেতাদের অবশ্য সমঝে চলে। ইশারায় ইশারায় দোস্তি করে। বুদ্ধি আর কৌশল খাটিয়ে সুবিধা দেয়,নেয়। তবে যা করে সব এক নম্বরীর মধ্যেই করে।

রাহাত ভাগ্যবান। লাফ দিয়ে দিয়ে প্রমোশন পেয়েছে। বাগাতে হয়নি। কষ্টও করতে হয়নি। ভাগ্যই তাকে ঠেলে নিয়ে ধাক্কা মেরে বড় পদে বসিয়ে দিয়েছে।

তার বয়েস মাত্র বিয়ালি­শ। এই বয়সটা মারাত্মক। এ সময় শরীর সব সময় চেতানো থাকে। মাথাও। তারও শরীর তাতানো থাকে। কিন্তু এ তাতানো শরীর নিয়েও সে কোন দুনম্বরী করে না। ভেতরটা ছোকছোক করে,লালা ঝরায়। আগুন ওঠে। চড়চড় শব্দ করে পোড়ে। কিন্তু বাইরেরটা শীতল একবারে একগ্লাস বরফ পানি। আর মাথাটা যখন বেতাল করে এখানে ওখানে গুতা মারতে চায় তখনও সে অফিসের এয়ারকন্ডিশন রুমে বসে শীতল হয়। তারপর ঠাণ্ডা মাথায় ভাবে। কোথায় আগুন বরফ করা যায়। রাহাত আবার ধার্মিক। ধর্ম-কর্মে তার প্রবল আস্থা। নামাজে ভুল করে না। সময় পেলে আমল করে। কখনও সখনও তাহাজ্জুদও পড়ে। নানা রকম অসিয়তও করে। বউকে নামাজ পড়তে বলে। তবে মন মতো সাচ্চা একনম্বর মাল পাওয়া গেলে শরীর ঠাণ্ডা করাকে অর্ধম মনে করে না।

রাহাত রুচিশীল। যেটা-সেটা, এটো পাতে সে মুখ দেয় না। তার সেরা আর এক নম্বর চাই। ভেতরটায় যে চুলচুলায়,তুফান বয়,হাত পা ঝিমঝিম করে,নিশপিশ করে তাও সেরাটার জন্য। যেমন তেমন জিনিস পায়ের কাছে গড়াগড়ি খেলেই কি! তার নজর সবসময় উঁচুতে। তার ঘর, বাড়ি, আসবাব, বউ, অফিস, টাওয়াল, আন্ডারওয়ার, সব কিছু ব্র্যান্ড। সে ব্যান্ড পছন্দ করে। ব্যান্ড জিনিসে গলতি থাকলেও তা ভালো। কারণ ব্র্যান্ড মালের আলাদা একটা মোজেজা আছে।

ধার্মিকরা আধুনিক হয় না। আধুনিক পোশাক ও জিনিসের প্রতি তাদের আকর্ষণ থাকে না। এমন একটা ধারণা চালু থাকলেও রাহাত বাজারের লেটেস্ট পোশাক পড়ে। মার্কেট-মার্কেট ঘুরে,খুঁজে,দেখে,যাচাই করে জিনিস কেনে। বউকে দামী শাড়ি কিনে দেয়। তবে তার ইচ্ছে মতো। বউ নিজে থেকে কিছু খরচ করলে তার প্রচন্ড রাগ হয়। সে নিয়ন্ত্রণে বিশ্বাস করে। সবকিছু নিজের আয়ত্বে ও নিজের পছন্দে করতে ভালোবাসে।

সে প্রতিদিন কিন সেভড হয়। একবারে ফিটফাট ও সমস্ত শরীর পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য দামী লোমনাশক ব্যবহার করে। শুধু নিজেকে নয়,পুরো পরিবার এবং বাসা-বাড়িও এভাবেই ফিটফাট ও পরিচ্ছন্ন রাখে। এবং এখানেও সে একনম্বর বিষয়টা বিবেচনায় রাখে।

সে একনম্বর কিন্তু মেয়েটা দুনম্বর। দিন পনের হয় মেয়েটা তার অফিসে জয়েন করেছে। একনম্বর মানুষের কাছে দুনম্বরের মতো অসহ্য আর কিছু নেই। রাহাতের কাছেও তাই। তবে মেয়ে লোক দুনম্বর হলে অসহ্য হয় না,কৌতুহল হয়। রহস্য আরো ঘনীভূত হয়,গল্পগুলো আরো ডালপালা মেলে যদি তা পুরো দুনম্বর না হয়ে দুনম্বরের গন্ধ ছড়ানো পাবলিক হয়। বাতাসে উড়া ধুরা শোনা যায়,কিন্ত চাুষ দুনম্বরী দেখা যায় না। এ মেয়ের বিষয়টাও তাই। সবাই জানে ডাল মে কুচ কালা কিন্তু ক্নো খানে কালা তা কেউ জানে না।

মেয়েটা চ্যাপ্টা গোলগাল। তার বউ একটু শুকনা। না,একেবারে হার ঝিরঝিরা না,বরং ভালো আজকালকার ভাষায় ঐ স্লিম গোছের। তবে মেয়েটার তেলতেলা চেকনাইরের গোলগাল শরীরটা বেশ । আর মুখটাও একটু গোলগাল যেন এই মাত্র একটা পদ্মফুল ফুটলো। ডান ভ্র“র কাছে একটা কাটা দাগ। দেখতে মনে হয় পাখি পাখি, এইমাত্র উড়াল দেবে। চুলগুলো একেবারে সোজা। পিঠের ওপর ছড়িয়ে থাকে। হাঁটে ছন্দ তুলে। হাঁটাটাও কেমন গোল গোল।

রাহাত বড় অফিসার। ঐ মেয়ের সাথে তার সরাসরি ফাইল চালাচালি নেই। কাছে বসিয়ে রসিয়ে রসিয়ে দেখার সুযোগও নেই। সে অবশ্য ইচ্ছে করলেই সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে কিন্তু সেরকম সুযোগ সৃষ্টি করে না, সে বরং সর্তক থাকে কারণ মেয়েটা দুনম্বর। তার সুনাম তাকে কঠোর ভাবে বাঁচিয়ে চলতে হবে। তাছাড়া বহু এক নম্বর মেয়েই তার জন্য একপায়ে খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

তবে ঘটনা এইখানে যে, র্দুগন্ধ ছড়ানো এ মেয়েটার প্রতি সে কৌতুহলী। না দেখার ভান করে আড়চোখে গোলগাল শরীরের যতটুকু সে দেখে তাতে জ্বালাপোড়ার এ শরীরটায় আরো জ্বলুনি বাড়ে, সাউণ্ডপ্র“ফ বদ্ধ দরজার ওপাশে সে মেয়েটার গোলগোল পায়ের শব্দ শুনে আর চোখ বন্ধ করলেই দরজা অতিক্রম করার ছবি দেখে।

মেয়েটার বিষয়ে সে খোঁজ-খবর করে। মানিকগঞ্জের যে অফিস থেকে এ মাল চালান হয়েছে সেখানে তার এক দোস্ত আছে। তবে ও ব্যাটার কপাল এতো ছাপ্পর মারা না। সে এখনও মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তা। দোস্ত হিসেবে সব ধরণের কথাবার্তাই চলে। তবে সে যেহেতু বড় বস। তাই ব্যাটা তাকে একটু তোয়াজও করে। সে ফোন লাগায়। যা ভেবেছে ঠিক তাই। তবে সেখানেও ঐ গন্ধই পাওয়া যায়। ডাইরেক্ট এ্যাকশানের সচিত্র কোনো সংবাদ মেলে না। তবে যতই লুকিয়ে আর অন্তরালে কাজ করুক মাল যে দুনম্বর তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তার মন যদিও পড়ে আছে সাচ্চা মালে তবু দুনম্বরীর গন্ধ নিতে রাহাতের নাকটা কেমন সুড়সুড় করে। সে বোঝে এখানে নিরাপদেই গন্ধ নেয়া যাবে। কারণ মেয়েটা নিজে নিজেই চলে আসবে। তার ওপর সে বস মেয়েটা তার অধীনস্থ। সে নিশ্চয় তার কৃপা চাইবে। চাকরি আর সন্মানের কথা ভেবে কিছু ফাঁস করবে না। তবে সে খুব সাবধানী। তার সুনামটাকে সে খুব গুরুত্ব দেয়। এ মালকে সে দূরে দূরেই রাখে। এসব মেয়ে আবার হামলে পড়া আঠালো জিনিস। পুরুষ দেখলেই এদের গা গতর মোচরায়।

কিন্তু এইসব বর্ম আর ব্যূহ তৈরি করেও শেষ রা হয় না ।

একদিন মেয়েটা দরজায় দাঁড়িয়ে বলে- আসবো স্যার।

না বলতে পারলে খুব ভালো হয় কিন্তু অফিসিয়াল সিস্টেমে সেটা পারা যায় না।

তার বলতে হয়-আসুন।

মেয়েটা ঢুকে ।

একটা ময়লা ঝুল তাড়াতাড়ি ঝেড়ে ফেললেই বাঁচে এমন ভাবে সে বলে- হু কি বলবেন, বলুন।

মেয়েটা একটা চিঠি মেলে ধরে। সরকারি চিঠি। এক লাইনের নিচে আঙ্গুল রেখে বলে- এ জায়গার নির্দেশনাটা বোঝা যাচ্ছে না।

মেয়েটা দাঁড়িয়ে থাকে। একটা চিকন গন্ধ নাকে লাগে। মেয়েটা হাত নাড়ে। আঁচলটা একটা ঢেউ তুলে টেবিলের কোনায় বাড়ি খায়। চুড়ির হালকা ঝুনঝুন আওয়াজ ওঠে।

এভাবে বিভিন্ন কাজে মেয়েটা তার রুমে আসে। রাহাতেরও মাঝে মাঝে তাকে ডাকতে হয়। সে জানে, মেয়েটা সহজলভ্য হাত বাড়ালেই পাওয়া যাবে। তার তাচ্ছিল্যে হয়। আবার যেহেতু পাওয়া যাবে তাই কাছে এসে দাড়ালে একটা পুলকভাব আর তেজী -উত্তেজনাও আসে। ভেতরে একটা পুটুর পুটুর অনুভূতি আসে। কথা কেমন পুতুপুতু হয়ে যায়। রাহাত এইসব অদ্ভূত অনূভূতি কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কারণ সে এসব পুরুষ পটকানো মেয়ে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। সেই তাকে কাছে ডাকবে, ইঙ্গিত করবে। তার কাছে নিজেকে তুলে দেবার জন্য মরিয়া হয়ে উঠবে।

এরকম আহŸানের প্রতীায় বেশ কিছুদিন কেটে গেলেও মেয়েটা অফিসিয়াল আচরণের বাইরে কিছুই করে না। কোন ইশারা ইঙ্গিতও না। ব্যক্তিগত বিষয়ে মুখে যেনো কুলুপ এটে রাখে। এ রকম বিপরীত আচরণে রাহাতের কৌতূহল আরো গাঢ় হয় এবং ভেতরে কিছু মাখন মাখন কথা জমে ওঠে। আর থেকে থেকে মুখ থেকে কিছু পিছলে পড়ে-

আপনার নাম লুবনা হক।

জি স্যার

হক কি স্বামীর না বাবার পদবী।

স্বামীর।

সে কান উৎকর্ন করে। স্বামীর ! তার মানে লেজ বিদ্যমান।

আপনার স্বামী কি করে?

জি স্যার ব্যবসা করে।

ব্যবসা! তার মানেই গোলমাল,মানে হয়তো কিছু করেই না,পরিপূর্ণ বেকার।

কিসের ব্যবসা ?

এই তো স্যার সাপ্লাইয়ের।

সে ভাবে জিজ্ঞেস করে – কি সাপ্লাই- কিন্তু করে না। তাতে তার বস আর গাম্ভীর্যভাবের তি হয়।

আপনার ছেলে-মেয়ে?

একটাই ছেলে।
এরকম কিছু কথা আদান-প্রদানের পরেও লুবনা হক প্রতিদিন অফিস করে। নির্দেশ মতো কাজ করে। রাহাতের দরজার সামনে ছায়া ফেলে গোল গোল পায়ে হেঁটে যায়। পিএ’র রুমে এসে দাঁড়ায়। কলিগদের সাথে কথা বলে। ঝকঝক করে হাসে। কিন্তু যা করা দরকার তা করে না। যেভাবে তার তাকানো উচিৎ সেভাবে তাকায় না। যেভাবে কথা বলা প্রয়োজন তা করে না। মেয়েটা একটা ধন্ধ রেখে দেয়। সে যেন একটা ধাঁধার খেলা খেলে, সে কেমন ? কেমন সে? সে আসলে কি? সে কেমন? এসব জানতে মন তখন মরিয়া হয়ে ওঠে। ঐ যে তার গন্ধটা,ঐ গন্ধের রেশে রেশে কখন সে আরো সুগন্ধি হয়ে ধরা দেবে। সে কি দেবে ? এসব জানতে ও পরখ করতে মন আনচান করে। মন বেচাইন হলেও রাহাত বর্শি ফেলা শিকারীর মতো ঝিম ধরে বসে থাকে। কারণ তার সন্ধানী দৃষ্টি আর পরিপক্ক মন বলে মেয়েটা না খাস্তা পচা মাল। সে এমনিই ধরা দেবে। তবে অদ্ভুত ব্যাপার হলো মেয়েটা ছক্কা পাঞ্জা খেলতেই থাকে। ধরা দেবার কোনো লণ দেখায় না আর বিপজ্জনক ভাবে দিনদিন তার আর্কষণ বাড়িয়েই চলে। শুধু শরীরী না, ব্যক্তিত্বেও আরাধ্য হয়ে ওঠে।তার হাঁটা, চলা,বলা সবকিছুতেই অন্যরকম শ্রী, আলাদা একটা ঢং। সুন্দর, বেশ সুন্দর। দুনম্বর মালেরও যে এত সোফেসটিক্যাসি থাকে এটা আগে জানা ছিলো না রাহাতের। আরো ব্যাপার হলো মেয়েটাকে দেখলেই তার পুলক অনুভব হয়। চোখে মুখে একটা চিকন হাসি ছড়ায়। গলটা নরম গদগদ হয়ে যায়। ভেতরটায় কেমন একটা শিহরণ লাগে। সব মিলিয়ে তার ভালো রাগে খুব ভালো লাগে। মনের এই রসায়নে সে নিজের ব্যক্তিত্ব আর বস ভাবটা অূণœ রেখে মেয়েটাকে ফাঁকে ফাঁকে রুমে ডাকে। লুবনা রুমে আসলে সে কথা বলে সিরিয়াস ভঙ্গিতে,কাজের কথা বলে আরো সিরিযাস ভঙ্গিতে। তারপর এমন কৌশলে কিছু প্রশ্ন করে যে এগুলো নিয়ে তার কোনো কৌতুহল নেই এই কথার মধ্যে চলে আসছে।

আপনার স্বামী তো ব্যবসা করে?

জি স্যার।

বাসায় বাচ্চা কার কাছে থাকে?

এই তো কারো কাছে না। বুয়া থাকে, দেখে।

সমস্যা হয় না?

হয় ,তবে এখন তো একটু বড় হয়ে গেছে।

কোন কাশে পড়ে?

কাস সিক্স।

বাসায় আর কেউ থাকে না।

না স্যার।

আপনার বাসা কোথায়?

মায়াকানন।

বাসা কি নিজের?

না ভাড়া বাসা

আপনি আর আপনার স্বামী দুজনেই তো আয় করেন। বেশ ভালোই তো চলতে পারেন।

তা পারি।

স্বামীর ব্যবসা কেমন ?

ভালোই
কথা বেশি বাড়ায় না রাহাত। ঐ মেয়েকে বেশিণ রুমে সে বসিয়েও রাখে না। তাতে কানাঘুষার সম্ভবনা প্রবল। আর সব কথা জানতেও হয় না। বাতাসেই কিছু কথা ওড়ে। ঐ মেয়ে লুবনার স্বামী নিয়ে কিছু উড়া কথা আছে। কথাগুলো সব উড়া না বোঝে রাহাত। স্বামীর বিষয়ে ঐ মেয়ের গলা নেমে যায়, কেন যায়? কথার চাল মেরে বোঝা যায় যতোই হক নামের লেজ থাক স্বামীর ব্যাপারে একটা ঘাপলা আছ্ েস্বামী কি পুরোটাই সাজানো কি না কে জানে। সে একটু প্যাঁচ মারে –

একদিন ভাইকে অফিসে নিয়ে আসেন।

মেয়েটা একটু তোতলায় বিবর্ণ হয় তারপর বলে- না স্যার অফিসে আসতে চাইবে না।

কেন বউয়ের অফিস, আসবে না কেনো।

লুবনা আর কথা বলে না আঙ্গুলে শাড়ির আচল পেঁচায়। চোখগুলো কেমন করুণ হয়ে যায়।
ঘাপলাটা রাহাত সহজেই ধরে। মেয়েটার শুধু স্বামী না আরো কিছু কঠিন সমস্যা আছে। মেয়েটার মধ্যে কষ্ট আছে। মেয়েটার সমস্যা মানেই তার জন্য পোয়া বারো। তবে আশ্চর্য মেয়েটার প্রতি তার আকর্ষণের সাথে মায়া জন্মে। সেটা প্রেম বলে রাহাতের কাছে সন্দেহ হয়। এই প্রেম প্রকাশের জন্য ভেতরে আকুপাকু শুরু হয়। সে লুবনাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বিষয়টা বোঝায় এবং আরো বোঝায় লুবনার মতো মেয়ের জন্য এই প্রেমবোধের কোনো কারণই ছিলো না। তার জন্য বহু মেয়ে লাইন ধরা। তবে যে কোনো বিশেষ কারণে এটা ঘটে গেছে। যথাসম্ভব সিনা টানটান রেখে এরকম আধাআধি একটা সিগন্যাল পাঠানোর পর সে নিজেকে আরো একটু খোলাসা করে-

সন্ধ্যার পরে আপনি কি করেন?

কি আর বাচ্চাকে পড়াই।

কোথাও যান না।

না সেরকম যাওয়া হয় না।

কেউ যদি যেতে বলে যাবেন?

লুবনা কিছুণ কথা খুঁজে পায় না। চোখ দুটো করুণ হয়ে যায়। তারপর মুখ নিচু করে রাখে।
এরকম আধো আধো বোলের সকরুন হৃদয় পোড়ানো কিছু কথার পরেও ঐ মেয়ের চোখে ক্রিয়া-পতিক্রিয়া জাগে না। বিষয়টা কি ? এত সতীগিরি কেন ? রাহাতের মতো এমন ব্যক্তিত্বশীল পুরুষ দেখলে কত মেয়ে গড়াগড়ি দেয় আর একটা আধ-বাজারী মেয়ে এখনও গলে না। বিষয়টি অভিনব ও অপ্রত্যাশিত। রাহাতের মতো এমন একজন চৌকষ, প্রতিষ্ঠিত,খাটি লোক এমন একটা মেয়ের কাছে আরাধ্য হয়ে ওঠে না। তার সামান্য সুদৃষ্টির জন্য মরিয়া হয়ে লাগে না। এটা অবমাননাকর। রাহাতের একপ্রকার গোস্যা হয়। এরকম চিরচিরা রাগের সাথে রাহাত আবার দেখে মেয়েটার প্রতি এমন রাগ নিয়েও তার প্রেম কমে না বাড়ে আর বাড়ে। দুই নম্বর একটা মেয়ের জন্য মনের এতো বিগলিত ভাব রাহাতকে খানিকটা দ্বিধায় ফেলে দেয়। নিজেকে সে চোখ রাঙানি দেয় এবং তার পছন্দ এবং রুচির জায়গাটা যে আরো অনেক উঁচুতে তা কঠিন ভাবে স্মরণ করে।
এরকমএকটা মেয়ের জন্য সে রাহাত যে নয় ,তার সার্কেল তার ওঠা-বসা এবং তার ঘনিষ্ঠতার জায়গা যে আরো উপরের কোনো জায়গা এধরণের নানা যুক্তি, মনকে নানা শাসানির পরও রাহাত দেখে ঐ মেয়ে কাছে আসলেই তার গলাটা ভাবের হয়ে যায়। ঐ মেয়ের সাথে কথা বলতে তার খুব মিঠা লাগে। কথা গুলো নরম আদ্র হয়ে ওঠে। মিঠা আলাপনের স্বাদে মনটা আরো বেতাল হয়ে যায়। তার মন খালি ঐ লুবনার জন্য আকুলি বিকুলি করে।

লুবনা হকের সাথে তার এরকম কড়া-মিঠা আলাপনের মধ্য দিয়ে সে বুঝতে পারে ঐ লুবনা তার গোলগাল চেহারায় যতো চেকনাই-ই ধরে রাখুক আর টুথপেস্ট মার্কা চকচকে দাতে যতো ঝকঝক করেই হাসুক মেয়েটা দুঃখী। মেয়েটার চোখ মাঝেমাঝেই অদ্ভুত করুণ হয়ে ওঠে। এবং সে আরো বুঝতে পারে লুবনা হকের ঐ করুণ হয়ে ওঠা চোখ আরো কিছু বলে।সেখানে র্নিভার হবার আর নির্ভরতার আকুতি ঝলসে ওঠে। রাহাতের এ প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য প্রেম আর সহানুভূতির মধ্যে সে বিলীন হতে চায়। নিজেকে খুলে দিতে চায়। সে একটা খুঁটি চায়। মনটাকে সে কোথাও হারাতে চায়। ঐ লুবনা হককেও প্রেমে ধরে।

মেয়েটা রাহাতকে মন একবারে ঢেলে দেয়। বিশ্বাসের সাথে রাহাতকে সব বলে। মেয়েটা ডিভোর্সী। হক নামটা তার শো। বাইরের মানুষ জানে স্বামী আছে। আসলে সে তিন বছর ধরেই একা। স্বামী কিছুই দেয় না। বাপের বাড়ির অবস্থাও বিশেষ একটা ভালো না। অনেক লড়াই করেই তাকে চলতে হয়। বেতনের টাকাতে কষ্ট করে ছেলে পালতে হয়।

এই গোপন গোমর জানবার পর সম্পর্কটা একেবারে চিটাগুড়ের মতো আঠালো আর কড়া মিঠা হয়। লুবনা হক মাঝে মাঝে রাহাত হাসানের সাথে বাইরে যায়। লাঞ্চ করে, টুকটাক কেনাকাটা করে। দুজনে না-পাওয়ার গল্প করে। তবে খুব সাবধানে। কারণ রাহাত চায় সব হবে তবে তা কাক-পীরও চুর আড়ালে। অফিস এবং অন্যের চোখে তাকে সাচ্চা মাল হয়ে থাকতে হবে। আর কিভাবে কিছু কৌশল আর ভাব ধরে সহী হয়ে থাকতে হয় তা সে ভালোই জানে। ঐ মেয়ে লুবনাকেও সে তা পলে পলে রপ্ত করায়। মন দেয়া-নেয়াটা পুডিংএর মতো জমে ওঠে। সম্পর্কটায় মায়া আর ভালোবাসার রং লাগে। এরকম একটা মহেন্দ্রণে লুবনা আরো একটা গোপন গোমর ফাস করে-

হাতের নখ খুঁটতে খুঁটতে বলে- আমাকে খুব বেশি ভালো না বাসাই ভালো। আমি আসলে ভালো মেয়ে নই।

এই মেয়ে যে নিজেকে বির্সজন দিয়েছে তা রাহাত প্রথম দিন চোখ দেখেই বুঝতে পেরেছে এটা তার জন্য বাসি সংবাদ। তবে সেটা ছিলো তার র্নিভূল অনুমান। অনুমান অকাট সত্য হয়ে যাওয়ায় লুবনার সাথে তার হৃদয়ের সম্পর্কের েেত্র তার মন খুতখুত করে ওঠে। সে খাটি মালের প্রতি আজীবন আসক্ত। এমন একটা সেকেণ্ডহ্যান্ডকে আনন্দ উপভোগের জন্য চিন্তা করা যায় কিন্তু সে মন পাবার অযোগ্য। তবে লুবনার সাথে মনের সম্পর্ককে সে অস্বীকার করতে পারে না। তার শূন্য শূন্য লাগে, ব্যথা লাগে। তার এতো পারিজাত মন আর ভালোবাসা তাকে দেয়া যায় না বলে মন বিদ্রোহ করে ওঠে। কিন্তু মনের এ বুদবুদের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে লুবনার দেহ-মনের প্রতি নেশা ধরানো আর্কষণ আর প্রবল প্রেমোচ্ছ¡াস। তার মন যুক্তি খোঁজে। সে মেয়েটাকে ভালোবাসে, মেয়েটা তাকে আরো অনেক বেশি ভালোবাসে।

সে উদারতা দেখায়- অতীত নিয়ে আমরা নাই বা ভাবলাম। আমরা দুজন এখন দুজনকে ভালোবাসি এটাই বড় কথা। এ ভালোবাসায় কোনো কলঙ্ক থাকবে না।

কলঙ্ক কি ধোঁয়া যায়?

আমার কাছে যায়।

যা করেছি বেচে থাকার কঠিন প্রয়োজনেই করেছি। তবু ভালোবাসা ঠকাতে জানে না। আমিও তোমাকে ঠকাতে চাই না।

তোমার সব জানার পরই আমি তোমাকে গ্রহণ করেছি। এখানে ঠকানোর কিছু নেই।
লুবনা হকের সাথে রাহাত হাসানের হৃদয়ের উষ্ণ সম্পর্ক। তারা দুজন পরিপক্ক,পরিণত মানুষ। ঐ মেয়ে লুবনা ডিভোর্সী। তার ঘরের দরজায় কোনো খিল নেই। ভর-ভরন্ত শরীরের বাঁকে বাঁকে তার উত্থাল-পাত্থাল ঢেঊ। বিয়ালি­শের তাতানো শরীর রাহাতের। সম্পর্কটা বিছানার না হবার যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ নেই। কিন্তু তারপরও খুব সহজেই সম্পর্কটা বিছানার হয়ে ওঠে না। লুবনা হক কি এক অদৃশ্য কারণে বিছানায় লুটিয়ে পড়ে না, এত প্রেম নিয়েও মোমের মতো গলে না। যে নারীর এমনিতেই বিছানায় গিয়ে ধন্য হয়ে যাবার কথা তাকে সাধাসাধি করাটা বেমানান এবং ব্যক্তিতের হানি। প্রবল ুধা নিয়েও রাহাত সংযত থাকে। সম্পর্কটা আরো বেশ কিছুদিন প্লেটনিক প্রেমের সংঙ্গাকে সার্থক রাখে এবং অতঃপর ওরা ঠিক করে…

কোথায় যাওয়া যায়?

আমি কি বলবো।

তোমার বাসায় যাওয়া যায় না?

না, আমার ছেলে আছে। ছেলের মনে আমি কোনোভাবেই কোন প্র্েরশ্নর জন্ম দেবো না।

তোমার কোনো ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর বাসায় ?

না, সেরকম কোনো বান্ধবীর বাসা নেই।

কোন হোটেলে কি যাওয়া যায়?

হোটেল! মানে?

ঢাকা শহরে এমন অনেক হোটেল আছে যেখানে দু’তিন ঘন্টা কাটানো যায়।

তাই বলে হোটেল!

ভালো কোনো এসি রুমে আমরা যাবো।

হোটেলে আমি যেতে পারবো না।

কেনো

ঐ জায়গায় বিষয়টা আমার বাণিজ্যিক মনে হয়।
বিষয়টা ঠিক হয়েও আটকে থাকে। রাহাতের কাছে অসহ্য লাগে। ঐ লুবনার মধ্যে সবসময় খুঁতখুঁত,খুঁতখুঁত। কারো বাসায় না,হোটেল না। হোটেলে এগুলো বাণিজ্যিক,কি হাস্যকর! আজে বাজে যুক্তি। তবে হোটেল জায়গাটা ঝুঁকির। যে কোনো সময় রেইড হতে পারে। সামান্য আবেগের কাছে সুনামকে ভাসিয়ে দেয়া যায় না। রাহাত ভাবে। মাথা ঠাণ্ডা রেখে চিন্তা করে।

শোনো, যদি আমার বাসায় হয় ?

তোমার বাসায়! সেটা কি করে সম্ভব

কেন সমস্যা কি ?

ভাবী থাকবে না।

ও তো প্রায়ই বাবার বাড়ি বেড়াতে যায়, তখন।

তোমার বাচ্চারা ?

ওদের সাথে নিয়েই যায়।

কিন্তু তোমার বাসায়… সেটা কি ঠিক হবে…মন কেমন জানি।

রাহাত বিরক্ত হয়-মন কেমন জানি করার কি আছে।
বাসার সিদ্ধান্তই সে ফাইনাল করে। শুধু সময় আর সুযোগের অপো। কায়দা মতো সে ব্যবস্থাও পাকা করে।
শোন আজই যেতে হবে

কোথায়?

আমার বাসায় ।

তোমার বাসায় হঠাৎ।

আজই সব ব্যবস্থা করলাম । আজই সুযোগ ।

সুযোগ মানে?

কি কিছু বোঝ না নাকি, আজ তোমার ভাবি নেই।

আজ হঠাৎ.. মানে.. কোনো মানসিক পিপারেশন নেই।

মানসিক পিপারেশনের কি আছে। তুমি মনে হয় জীবনে প্রথম করবে।

না .. সেটা না। তোমার বাসায় যাওয়াটা আমার ঠিক ভালো লাগছে না।

আমার বাসায় তোমার সমস্যা কি? তোমাকে তো কেউ খেয়ে ফেলছে না।
নিখুঁত ছক কাটা সব। লুবনা অফিস থেকে বের হয় ঠিক বারোটায়। অফিস থেকে বেশ একটু দুরে দাঁড়ায়। রাহাত বের হয় আধঘন্টা পরে। সে মাথাঠাণ্ডা, সাবধানী লোক। সরকারি গাড়ি নেয় না। ট্যাক্সি নেয় মতিঝিল থেকে শ্যামলী। প্রায় এক ঘন্টা। বাসা থেকে একটু দুরে থামে গাড়ি। অফ হোয়াইট চারতলা বাড়ি। নিচে বালু সিমেন্টের স্তুপ। উপরে পাঁচতলার কাজ চলছে। তিনতলার বা দিকের ফ্যাট। দরজা খুলে হালকা চাপিয়ে রাখে রাহাত। দশ মিনিট পরে আসে লুবনা। কন্সট্রাকশনের কাজ চলছে । কেউ কিছু জিজ্ঞেস করে না। করলে বলতে হতো চারতলা জহির সাহেবের মেয়ে রোজীর কাছে যাবো।

দুই বেড ড্রয়িং আর ডাইনিং রুমের বাসাটা যেনো একটা নিখুঁত ছবি। সবগুলো জানালা আর দরজায় ভারী পর্দা টানানো। ঘরে বৃষ্টিদিনের মতো আবছা অন্ধকার।তারপরও বোঝা যায় প্রতিটি জিনিস ঝকঝকে,ধূলোহীন। রাহাত রুচিবান। কিন্তু এই ছবি শুধু রাহাতের একার হাতের নয় আরো কারো হাতের ছোঁয়ায় তৈরি। লুবনা ড্রয়িং রুমে বসে। রাহাত দরজার ফাঁক দিয়ে শামুকের মতো মাথা ঘুরিয়ে আরো একবার চারপাশ দেখে। তারপর শব্দহীন দরজা লাগায়। গলা নামিয়ে কথা বলে সে-

কেমন লাগছে ?

লুবনা কথা বলে না,ঘরের চারদিকে চোখ বুলায়।দেয়ালে সুন্দর পেইনটিং।

এখন শুধু তুমি আর আমি, একদম অন্যরকম তাই না

লুবনা দেয়ালের পেইনটিং দেখে।

কি বলছো না,কেমন লাগছে?

তুমি কি সবকিছু এরকম ভেবেছিলে,না অন্যরকম। আমার কিন্তু খুব ভালো লাগছে, তোমার? আমরা দুজন এখন শুধু দুজনের, কি কোনো কথা বলছো না?

তোমার বাসাটা খুব সুন্দর।

হু। এরকম একটা দিনের জন্য আমরা অনেকদিন অপো করে আছি , তাই না?
সেন্টার টেবিলের ওপর একটা ফ্যাশন ম্যাগাজিন রাখা। লুবনা ম্যগাজিনটা হাতে নেয়।

আজকের দিনটা তোমার কাছে কেমন? আমার কাছে কেমন যেনো স্বপ্ন স্বপ মনে হচ্ছে। এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না। কেমন একটা অদ্ভুত অনুভূতি। কি কেমন অদ্ভুত লাগছে না?

তোমার বউ মনে হয় খুব গোছালো ।

হু। এখন বলো কি খাবে?

লুবনা ম্যাগাজিনটার পাতা উল্টায়।

রাহাত উত্তরের অপো করে না। ফ্রিজ খুলে। ছুলে রাখা লিচু, কাটা আম আর কোক বের করে। খুব দ্রুত আর সংপ্তি আপ্যায়ন সেরে বেড রুমে আসে তারা। রাহাত দুপাশ থেকে দুই হাতে ধরে খাটের ওপর বসায় লুবনাকে। তারপর লুবনার কোলে মাথা ঘষে। গালে গাল ঘষে।

কি যে ভালো লাগছে।

দুপাশ থেকে দুহাত ধরে লুবনাকে আবার দাড় করায়। তারপর আলিঙ্গন করে । ফিসফিস করে-

আজ আমি পূর্ণ ।

কোমরে হাত জড়িয়ে লুবনাকে নিয়ে হেঁটে আসে বাথরুমের দরজা পর্যন্ত। গালে ছোট্র একটা আদর রেখে বলে- আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।

ঘরটা বেশ বড় । তবে এটাকে ঘর না বলে ছবির ঘর বলা যেতে পারে। দেয়ালে বড় করে টানানো নব দম্পতির ছবি। পাগড়ি পরা রাহাত বেশ শুকনো। নববধূ একটু নিচু হয়ে বসা । মুখে ঘন লজ্জা। চোখে টানা কাজল। ঠোটে হালকা লাজুক হাসি। পাশেই নীল সমূদ্রের ঢেউয়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে হাসছে দুজন। ঘাড়ের পেছনে হাত দিয়ে বউকে জড়িয়ে ধরে আছে রাহাত। বউটার মাথা ঝুঁকে আছে রাহাতের কাঁধে। হাওয়ায় উড়ছে বউটার হলুদ শাড়ির আঁচল। কপালে এলোমেলো চূল।

ওয়াডড্রবের ওপরে একটা ঝর্ণার সামনে দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে হাসছে। ওপাশের দেয়ালে ওরা দুজন,দুই বাচ্চা,চারজনের হাসি হাসি ছবি। সুন্দর, সুখী পরিবার। পাশেই পাহাড়ের সামনে সবুজের মধ্যে দাড়ানো দুজনের কোজ ছবি। সূর্যাস্তের গাঢ় লাল রংদুজনের চোখে-মুখে। অসাধারণ রোমান্টিক।

বাথরুমে একটু সময় নেয় রাহাত। গায়ের শার্ট আর গেঞ্জি খুলে উমুক্ত করে শরীরের উর্ধ্বাংশ। বেসিনের আয়নার সামনে দাঁড়ায়। হাত উঁচু করে বগলের তলা দেখে। প্যান্টের ভেতর হাত দিয়ে তলপেটের নিচ পরখ করে। না সব পরিচ্ছন্ন। সে একবারে তৈরি। দাত সে সকালেই ব্রাশ করেছে। তারপরও ব্রাশে পেস্ট নিয়ে দাত মাজে। মেয়েরা ছেলেদের মুখের গন্ধ একদম পছন্দ করে না। সে আবার আয়নায় উন্মুক্ত শরীর দেখে। পুরুষ্টু দুই বাহু, চওড়া সিনা,বুকে ঘন কালো লোম। লোমগুলোয় হাত দিয়ে ষ্পর্শ রাখে। তারপর বডি ¯েপ্র করে। গালে অকারণ একটু আফটার সেভ ঘষে।

লুবনা ওয়াডড্রবে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে ছবি দেখে। ছবির বউটা হাসে ,তার দিকে চেয়ে থাকে।
রাহাত বাথরুম থেকে বের হয়ে পাশে এসে দাঁড়ায়। আহলাদী বেড়ালের মতো লুবনার গালে গাল ঘষে। ঠোট রাখে। গাঢ় কন্ঠে বলে Ñ আসো।

লুবনা দাঁড়িয়ে থাকে। ছবি দেখে ।

ডালিং,আজ কিন্তু দিনটা আমরা একটু অন্যভাবে সেলিব্রেট করবো।

রাহাত কাধে রেখে আবেগভরা কন্ঠে বলে- তুমি কিন্তু কোনো কিছু না বলতে পারবে না। তোমাকে আজ মন ভরে দেখবো। বহুদিনের স্বাদ আমার।

আমার যেভাবে খুশি সেভাবেই তোমাকে শুধু আবিষ্কার করে যাবো আমি কোনো মানাই আমি মানবো না।

কিছু বলছো না কেন জান??

তোমাদের ছবিগুলো খুব সুন্দর।

রাখো এসব এখন আসো লীটি,আর দেরী করো না।

রাহাত আবার গালে গাল ঘষে। লুবনাকে তার দিকে টেনে আনে। জড়িয়ে ধরে। গভীর আলিঙ্গনে বুকের মধ্যে পিষে ফেলে। কপালে গাঢ় চুম্বন রাখে। চুলের ভেতর নাক ডুবায়। আলতো করে বেঁধে রাখা লুবনার চুল খুলে পিঠের ওপর ছড়িয়ে পড়ে। চুলের মিষ্টি গন্ধটা তাকে আরো উত্তেজিত করে তোলে।

সে ফিসফিস করে বলে- আমাকে পূর্ণ করে দাও, আমাকে পূর্ণ করে দাও।

রাহাতের দৃঢ় আলিঙ্গন থেকে নিজেকে মুক্ত করে ওয়াডড্রবের সামনে স্থির হয়ে দাড়ায় লুবনা। শাড়ির আঁচল ঠিক করে ।

শোন,আমি এখন যাবো।

যাবে মানে? কি বলছো তুমি?

লুবনা নিঃশব্দ দাড়িয়ে থাকে।

তুমি যাবে, এটা কি সত্যি মীন করছো ? তুমি জানো না তুমি কেন এসেছো। তুমি কি আমাকে প্রতারণা করতে চাও। তুমি আমাকে কথা দাওনি। দেবে বলনি। তুমি আমাকে দিতে আসনি?

লুবনা নিজেকে আরো একটু গুছিয়ে নেয়। সামনের কর্ণার টেবিলে রাখা কাঁধের ব্যাগটার দিকে আগায়।

কেন যাবে? আমি জানি না তোমার আসল পরিচয়? তোমাকে আমি খুব বেশি সন্মান দেখিয়ে ফেলেছি। তোমরা আসলে পায়ের নিচের মানুষ,পায়ের নিচেই তোমাদের জায়গা। শুধু ভোগের জন্যই তোমরা,তোমাদের ঐ একটাই পরিচয়।

লুবনা কথা না বলে কাধে ব্যাগ তুলে নেয়।

আমার বোঝা উচিৎ ছিলো তোমাদের মতো মেয়েরা আর বদলাবে কতটুকু। ভালোবাসা আর বিশ্বাসের কি মূল্য দেবে,তারা?

প্রি বাঘের মতো পেছন থেকে থাবা মেরে টেনে আনে লুবনাকে। মুখোমুখি দাড় করায়-

আমি যদি জোর করি।

জোর তো আমি আরো অনেক আগেই করতে পারতাম আমি তা করিনি । তোমার প্রতি সন্মান দেখিয়েছি। আমি তো যাচ্ছে তাই লোক না। তাই না কেউ সেধে দিলেও নেই না।

কাঁধের ওপর থেকে আস্তে করে রাহাতের হাতটা সরায় লুবনা।

জোর তুমি করতে পারো কিন্তু তবু আমি পারবো না।

কেন পারবে না,তুমি কি কুমারী,ভার্জিন, ভালো মেয়ে? তুমি কি ইচ্ছার বিরুদ্ধে এসেছো? তোমাকে কি জোর করে এনেছি? আর কারো সাথে যাওনি তুমি?

কেন পারবে না,তুমি কি সতী সাধ্বী ? ধোয়া তুলসী পাতা? তোমাদের আমি চিনি না।

আর কাউকে তুমি দাওনি। কেনো, সং সেজেছো কোনো। কেন পারবে না?

বলো কেন পারবে না? আর কাউকে দাওনি?

তোমার বউ তোমাকে খুব ভালোবাসে, তাই না?

বাসে।

খুব ভালোবাসে?

হ্যা বাসে

তোমার বউ তোমাকে খুব বিশ্বাস করে?

হ্যা করে।

সে কি কখনও ভাবতে পারবে তুমি তোমার এই বেডরুমে এই বিছানায় অন্য একটা মেয়ের সাথে…

Comments
বুধবার কলকাতায় ব্রাজিল-ইংল্যান্ড ম্যাচ। ফাইল ছবি
রকমারি2 mins ago

বুধবার কলকাতায় ব্রাজিল-ইংল্যান্ড ম্যাচ

অপু বিশ্বাস (অবন্তি বিশ্বাস অপু)। ছবি : সংগৃহীত
ঢালিউড1 hour ago

অপু বিশ্বাসকে নিয়ে মিথ্যা প্রচারণা করে ওদের কি লাভ?

পরীমনি। ছবি : সংগৃহীত
ঢালিউড2 hours ago

আজ পরীমনির শুভ জন্মদিন

সোফিয়া হায়াত, ভারতের খুব পরিচিত মডেল, বিতর্কিত শিল্পী এবং চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী। ছবি : ইন্টারনেট
ঘটনা রটনা8 hours ago

আমার সামনেই যৌনকর্মীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন তিনি : সোফিয়া হায়াত

বাপ্পী চৌধুরী ও বিদ্যা সিনহা সাহা মিম। ছবি : সংগৃহীত
ঢালিউড8 hours ago

ফায়দা লোটার জন্য ইন্ডাস্ট্রিকে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে : বাপ্পী চৌধুরী

শাবনূর (আসল নাম কাজী শারমিন নাহিদ নূপুর), বাংলাদেশি চিত্রনায়িকা। ছবি : সংগৃহীত
ঢালিউড9 hours ago

একটা কালো ছায়ার জন্য পুরস্কারগুলো আমার হাত ছাড়া গেছে : শাবনূর

আসিফ আকবর, বাংলাদেশি সঙ্গীতশিল্পী। ছবি : ইউটিউব থেকে নেওয়া
ঘটনা রটনা10 hours ago

আসিফিয়ানদের অন্তরে আগুন লাগিয়ে দিল ধ্রুব মিউজিক স্টেশন

নুসরাত জাহান ও মৌসুমী হামিদ। ছবি : ইন্টারনেট
ঘটনা রটনা11 hours ago

নুসরাত জাহানের সঙ্গে বদল হচ্ছেন মৌসুমী হামিদ

কন্যা সন্তানের মা হলেন বলিউড অভিনেত্রী এশা দেওল
ঘটনা রটনা11 hours ago

কন্যা সন্তানের মা হলেন বলিউড অভিনেত্রী এশা দেওল

জাগো বাংলাদেশ শিশু-কিশোর সম্মাননা গ্রহণ করছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মোস্তফা কামাল খান সোহেল
রকমারি11 hours ago

জাগো বাংলাদেশ শিশু-কিশোর সম্মাননা পেয়েছে ‘মডেল হান্টার বিডি’

Advertisement

বিনোদনের সর্বশেষ খবর

অপু বিশ্বাস (অবন্তি বিশ্বাস অপু)। ছবি : সংগৃহীত অপু বিশ্বাস (অবন্তি বিশ্বাস অপু)। ছবি : সংগৃহীত
ঢালিউড1 hour ago

অপু বিশ্বাসকে নিয়ে মিথ্যা প্রচারণা করে ওদের কি লাভ?

সম্প্রতি অপু বিশ্বাসকে নিয়ে চলছে এক অন্য ধরনের যুদ্ধ। নিজেদের সংবাদের শিরোনামে রাখতে কিছু নির্মাতা ঢালিউড কুইন অপু বিশ্বাসকে নিয়ে...

পরীমনি। ছবি : সংগৃহীত পরীমনি। ছবি : সংগৃহীত
ঢালিউড2 hours ago

আজ পরীমনির শুভ জন্মদিন

পরীমনি। বর্তমান সময়ের আলোচিত অভিনেত্রী। অভিনয়গুণে দর্শক ভালোবাসা পেয়েছেন অনেক আগেই। এখন ব্যস্ত আছেন ভালো ভালো ছবি উপহার দিয়ে সেই...

সোফিয়া হায়াত, ভারতের খুব পরিচিত মডেল, বিতর্কিত শিল্পী এবং চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী। ছবি : ইন্টারনেট সোফিয়া হায়াত, ভারতের খুব পরিচিত মডেল, বিতর্কিত শিল্পী এবং চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী। ছবি : ইন্টারনেট
ঘটনা রটনা8 hours ago

আমার সামনেই যৌনকর্মীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন তিনি : সোফিয়া হায়াত

সংবাদমাধ্যমের কাছে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন ভারতের খুব পরিচিত মডেল, টিভি অনুষ্ঠানের বিতর্কিত শিল্পী এবং চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পী সোফিয়া হায়াত (sofia...

বাপ্পী চৌধুরী ও বিদ্যা সিনহা সাহা মিম। ছবি : সংগৃহীত বাপ্পী চৌধুরী ও বিদ্যা সিনহা সাহা মিম। ছবি : সংগৃহীত
ঢালিউড8 hours ago

ফায়দা লোটার জন্য ইন্ডাস্ট্রিকে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে : বাপ্পী চৌধুরী

গত শুক্রবার দেশের ১০৯টি সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ও চিত্রনায়ক বাপ্পী চৌধুরী অভিনীত ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’। ছবিতে...

শাবনূর (আসল নাম কাজী শারমিন নাহিদ নূপুর), বাংলাদেশি চিত্রনায়িকা। ছবি : সংগৃহীত শাবনূর (আসল নাম কাজী শারমিন নাহিদ নূপুর), বাংলাদেশি চিত্রনায়িকা। ছবি : সংগৃহীত
ঢালিউড9 hours ago

একটা কালো ছায়ার জন্য পুরস্কারগুলো আমার হাত ছাড়া গেছে : শাবনূর

৯০ দশক থেকে এ পর্যন্ত আসা চিত্র তারকাদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় চিত্রতারকা হিসেবে যাকে বিবেচনা করা হয় তিনি আর কেউ...

আসিফ আকবর, বাংলাদেশি সঙ্গীতশিল্পী। ছবি : ইউটিউব থেকে নেওয়া আসিফ আকবর, বাংলাদেশি সঙ্গীতশিল্পী। ছবি : ইউটিউব থেকে নেওয়া
ঘটনা রটনা10 hours ago

আসিফিয়ানদের অন্তরে আগুন লাগিয়ে দিল ধ্রুব মিউজিক স্টেশন

আসিফ আকবর ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে সম্প্রতি ভক্তদের ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের একটি অসাধারন উদ্যোগের ঘোষণা। আর তা হল ট্র্যাকের ক্যারাওকে ভার্সন...

নুসরাত জাহান ও মৌসুমী হামিদ। ছবি : ইন্টারনেট নুসরাত জাহান ও মৌসুমী হামিদ। ছবি : ইন্টারনেট
ঘটনা রটনা11 hours ago

নুসরাত জাহানের সঙ্গে বদল হচ্ছেন মৌসুমী হামিদ

অঙ্কুশ হাজরা ও নুসরাত জাহানের ‘বলো দুগ্গা মাঈকি’ ছবিটি এবার সাফটা চুক্তির আওতায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। ছবিটি আনছে ‘তিতাস...

কন্যা সন্তানের মা হলেন বলিউড অভিনেত্রী এশা দেওল কন্যা সন্তানের মা হলেন বলিউড অভিনেত্রী এশা দেওল
ঘটনা রটনা11 hours ago

কন্যা সন্তানের মা হলেন বলিউড অভিনেত্রী এশা দেওল

কন্যা সন্তানের মা হলেন বলিউড অভিনেত্রী এশা দেওল। সোমবার সকালে মুম্বইয়ের হিন্দুজা হাসপাতালে জন্ম নেয়া নতুন এই অতিথিকে স্বাগত জানিয়েছেন...

সর্বাধিক পঠিত