Connect with us

মতামত

নতুন মেরুকরণে মধ্যপ্রাচ্য || রায়হান আহমেদ

Published

on

নতুন মেরুকরণে মধ্যপ্রাচ্য || রায়হান আহমেদ

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বর্তমানে কাতার ইস্যু সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে সউদি আরব এবং বেশ কয়েকটি দেশ কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক ও ভ্রমণ সম্পর্ক ছিন্ন করার পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নানা মেরুকরণ শুরু হয়েছে। একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কলকাঠি নাড়ছেন,অন্যদিকে রাশিয়া,তুরস্ক,পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র প্রত্য-পরোভাবে কাতারের পে অবস্থান নিয়েছে। সবমিলেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি নিয়ে বিশ্বে ফের নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে।এদিকে চরমপন্থার সঙ্গে কথিত যোগসাজশের যে অভিযোগ কাতারের বিরুদ্ধে উঠেছে, তা থেকে মুক্তি পেতে নিজস্ব পররাষ্ট্র নীতিকে বাদ দিয়ে বশ্যতা স্বীকার করা হবে না বলে দেশটি প্রতিজ্ঞা করেছে। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানি বলেছেন, সঙ্কট সমাধানে তিনি কূটনৈতিক সমাধান চান। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে যে সামরিক উপায়ে বর্তমান সঙ্কটের সমাধান করা সম্ভব নয় বলেও মনে করেন কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ইসলামী চরমপন্থাকে সমর্থনের যে অভিযোগ দেশটির বিরুদ্ধে উঠেছে, কাতার তাও প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে, কাতারের গণমাধ্যম আল-জাজিরা বলেছে যে তাদের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা হয়েছে। এক টুইট বার্তায় নেটওয়ার্কটি জানায়, তাদের সব ধরণের ব্যবস্থা, ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সাইবার হামলার মুখে পড়েছে। চলমান সঙ্কটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আল-জাজিরা এবং গত মাসের শেষের দিকে অন্যান্য উপসাগরীয় দেশে এটি নিষিদ্ধ করা হয়। আল-জাজিরা তাদের ওয়েব সাইটে জানায় তাদের কার্যক্রম চালু রয়েছে, তবে নানা উপায়ে হামলা জোরদার হচ্ছে। অন্যদিকে, কাতারে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন স্টেশন জানিয়েছে যে হ্যাকিংয়ের চেষ্টা হওয়ার কারণে তারা তাদের ওয়েব সাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিচ্ছে। এদিকে, মিশর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে এমন একটি দাবী তদন্ত করে দেখতে অনুরোধ করেছে যাতে বলা হয়েছে যে রাজকীয় পরিবারের কয়েকজন সদস্যের মুক্তির জন্য কাতার ১০০ কোটি ডলার মুক্তিপণ দিয়েছে। বলা হচ্ছে, ইরাকের দণিাঞ্চলে শিকার করার সময় তাদেরকে অপহরণ করা হয়। কাতারের সাথে সম্পর্কোচ্ছেদের ধারায় এখনও ব্যতিক্রম ওমান।

 

সউদি আরব এবং বেশ কয়েকটি দেশ কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক ও ভ্রমণ সম্পর্ক ছিন্ন করে।মধ্যপ্রাচ্যের আগামী রাজনীতি, সামাজিক জীবন ও সামরিক নীতি কেমন হবে সেটির উত্তর রয়েছে এ অস্ত্র-চুক্তির মধ্যেই। ইসলাম ধর্মের দুটি প্রধান পবিত্র স্থান সৌদি আরবে। তাদের তো মুসলিম বিশ্বের কাছে শ্রদ্ধার্হ হওয়ার কথা। অথচ সৌদি আরবকে প্রতিবেশি মুসলিম দেশগুলির আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য ও নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে অস্ত্র কিনতে হচ্ছে।সৌদি আরব সমাজের রাজনীতি পুরোটা ইরান ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে, অনেকটা ভারত ঘিরে পাকিস্তানের রাজনীতির মতো। মুসলিম বিশ্বের যে একমাত্র রাষ্ট্র সৌদি আরবের একক নেতৃ্ত্েবর জন্য হুমকি সেটি হল ইরান। ইরাককে আগেই শায়েস্তা করা হয়েছে।ইরাক যুদ্ধের জন্য আমরা কেবল পশ্চিমা দেশগুলিকে, বিশেষ করে আমেরিকাকে দায়ী করি। আমাদের উচিত ইরাক ধ্বংসের পিছনে সৌদি আরবের শক্তিশালী ভূমিকার সঙ্গে পরিচিত হওয়া। ইরাক যুদ্ধের বছর দুয়েক আগে তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সৌদি আরব কর্তৃক যুদ্ধের প্ররোচনা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। দুবছর পর টেক্সাসে বুশ পরিবারের খামারবাড়িতে যুক্তরাজ্যের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার কীভাবে বুশকে রাজি করালেন সেটির উত্তর জানা দরকার। সে সময়ে ব্লেয়ারের যুক্তরাজ্যে সৌদি আরবের বিশ্বস্ত বন্ধু ও মিত্র দেশ কাতারের হাজার হাজার বিলিয়ন পাউন্ডের বিনিয়োগটি সৌদি আরবের পে কী ভূমিকা রেখেছিল সেটিও বুঝতে হবে।আমরা কেবল বিশ্বাসগত কারণে বাস্তবায়নকারীদের দায় দিব আর সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের দায়মুক্তি দেব এই অনুশীলন থেকে বের হয়ে আসা উচিত।যাহোক, সাদ্দাম হোসেন ও মুয়াম্মার গাদ্দাফির স্বৈরশাসন শেষ হওয়ার পর সৌদি আরবের আধিপত্যবাদী চেতনায় বেশ স্বস্তি ফিরে এসেছিল। কিন্তু সমস্যা হিসেবে এখন সামনে ইরান। বর্তমােেন এই দেশ ছাড়া সৌদি আরবের সামনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ নেই। মোটা দাগে তিনটি কারণে সৌদি আরবের কাছে ইরান বড় চ্যালেঞ্জ।

 

অপরদিকে শিা,বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিতে ইরান রণশীল সৌদি আরবের চেয়ে বহু এগিয়ে। দেশটি কেবল প্রাকৃতিক সম্পদে পূর্ণ নয়, নিজেদের মানবসম্পদও কাজে লাগিয়েছে।পশ্চিমা বিশ্বের বহু নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচুর সংখ্যক ইরানি অধ্যাপক ও গবেষক পাওয়া যাবে, যেখানে সৌদি আরবের কাউকে পাওয়া দুষ্কর। ইরানের চলচ্চিত্র যেখানে বিশ্বখ্যাত, সেখানে সৌদিরা মাত্র মাসখানেক আগে সিনেমা হল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।তাছাড়া ইরানে ইসলামিক শাসনতন্ত্র থাকলেও নির্দিষ্ট সময় পরপর নির্বাচন হয়। জনগণ ভোট দেয়। একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশে জনগণের চিন্তা-চেতনা লালন করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সম্ভাব্য ভয়ানক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচার জন্য সৌদি আরব এখন পরিবর্তনে আগ্রহী।দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতি থেকে যদি তেল ও পর্যটনের অবদান বাদ দেওয়া হয়, তাদের অবস্থা সুদানের চেয়েও খারাপ হয়ে যাবে।তাছাড়া সৌদিদের তেল-নির্ভরশীলতা থেকে বিশ্বঅর্থনীতির ক্রমশ উঠে আসার ইঙ্গিতও তাদের ভাবাচ্ছে।ফলে অন্যান্য খাত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ছাড়া সৌদি রাজতন্ত্রের কাছে বিকল্প নেই। সেটি করতে গেলেই আগে রাষ্ট্রটির সামাজিক অনুষঙ্গে পরিবর্তন আনা আবশ্যক। রাজতন্ত্র ঠিক রেখে তেমন পরিবর্তন আনাও আবার ঝুঁকিপূর্ণ। এ েেত্র ইরানের গণতান্ত্রিক অনুশীলন সৌদি আরবের জনগণকে গণতন্ত্রের জন্য উৎসাহিত করতে পারে।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া পশ্চিমা বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলি ইরানের প্রতি ততটা নাখোশ নয়, কেবল জোটের স্বার্থেই ইরানকে এড়িয়ে চলছে। যেমন, ফ্রান্স ও ইতালি। ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে চুক্তির পর ইরান যুক্তরাষ্ট্রর কাছ থেকে পাওনা টাকার একটি অংশ দিয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে এয়ারবাস ক্রয়ের বড়সড় চুক্তি করে। ইতালির সঙ্গেও নানান বাণিজ্যিক চুক্তি করেছে দেশটি।এমনকি আমেরিকাসহ অন্য অনেক দেশের সঙ্গে সঙ্গে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা সত্তে¡ও, বহু গণতান্ত্রিক দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে।ভারতও এ বিষয়ে আমেরিকার অনুরোধ বারবার উপো করেছে।ভারত তার বার শতাংশ জ্বালানি ইরান থেকে ক্রয় করে থাকে।রাশিয়াও ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছিল।ফলে ইরানের প্রতি সৌদি আরবের আগ্রাসী ইচ্ছার প্রতিফলন বহুভাবেই বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

 

সৌদিরা হাল ছেড়ে দেয়নি।ইরান রাষ্ট্রটি শিয়াঅধ্যুষিত হওয়ার কারণে সৌদি আরবের রাজতন্ত্রের জন্য সুবিধাই হয়েছে। তারা নিজেদের মতা টিকিয়ে রাখতে ও আধিপত্য স্থায়ী করতে ইরানের সঙ্গে ধর্মীয় গোত্রভিত্তিক বিভাজনটি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নীতি হিসেবে দশকের পর দশক ব্যবহার করে আসছে। শিয়াপ্রধান রাষ্ট্র ইরানের বিপে ধর্মীয় উন্মাদনা দিয়ে নিজের জনগণকে যত দিন ঘুম পাড়িয়ে রাখতে পারবে সুন্নিপ্রধান সৌদি আরব, রাজতন্ত্রের জন্য তা ততটাই নিরাপদ।সঙ্গত কারণেই বাকি বিশ্ব থেকে ইরানকে আলাদা করার জন্য সৌদি আরব এহেন কোনো নীতি নেই যা গ্রহণ করেনি। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইরানের সঙ্গে চুক্তি করার সপ্তাহ দুয়েক পরেই সৌদি আরব রাশিয়ার সঙ্গে অস্ত্র-চুক্তি করে। ওই চুক্তি আমেরিকার রাজনৈতিক সমাজকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছিল। ইরানের প্রতি ওবামা প্রশাসনের নরম-নীতিতে সৌদি প্রশাসন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল তখন। এমনকি প্রয়োজনে আমেরিকার পুঁজিবাজার থেকে সৌদি আরবের প্রায় ল বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল।বহু চেষ্টা করেও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য সিরিয়ার মাটিতে মার্কিন সেনাদের বুট নামাতে পারেনি সৌদিরা। ওবামা প্রশাসন মিশরের উগ্র সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রধান মুহাম্মদ মুরসী এবং লিবিয়ার স্বৈরশাসক মুহাম্মদ গাদ্দাফিকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে সমর্থন দেওয়া ছাড়া এমন কিছু করেনি যেটি সৌদি আরবের পে যায়।ওদিকে, আইএসকে প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরুদ্ধে ফলপ্রসূভাবে ব্যবহার করা যায়নি। বরং সেটি সৌদি আরব ও তার মিত্রগুলির জন্য ব্যাকল্যাস হয়ে দেখা দিয়েছিল। সৌদিরা বিশ্বাস করে, পশ্চিমা বিশ্ব যদি সিরিয়ায় সামরিক বুট পাঠিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে আসাদকে সরিয়ে দিত পারত তাহলে আইএস সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ত না।এ অবস্থায় সৌদিরা হোয়াইট হাউজে একজন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের জন্য অপো করছিল। ট্রাম্পের প্রতি মুসলিম বিশ্বের মনোভাব ধনাত্মক কিংবা ঋণাত্মক যাই হোক, সৌদি শাসকদের আস্থা রয়েছে তাঁর প্রতি।

 

ট্রাম্পের বিদেশনীতি নিয়ে নিজ দেশে তাঁর কট্টর বিরোধী শিবির সরব। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের হাজার বিলিয়ন ডলারের চুক্তি ট্রাম্পকে কেবল স্বস্তি এনে দিচ্ছে না, সেটি বরং বিদেশনীতিতে তাঁর প্রশাসনের বড় ধরনের সমতার উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।এ সুযোগে সৌদি আরবও মধ্যপ্রাচ্যে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনকে কাছে লাগানোর চেষ্টা করবে, এটাই স্বাভাবিক।হঠাৎ করেই কি সৌদি আরব কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল? সঙ্গে নিল সংযুক্ত আরব আমিরাত,বাহরাইন, ইয়েমেন, মিশর এবং মালদ্বীপকে? কাতারের বিরুদ্ধে তারা যে অভিযোগ এনে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে তা হল, সন্ত্রাসবাদে সমর্থনদান। বিশেষ করে ইয়েমেনে হুতিদের এবং মিশরের উগ্র সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি সামনে আনা হয়।বিশ্ব-সন্ত্রাসবাদে কাতারের একটি কৌশলী ভূমিকা রয়েছে, এতে সন্দেহ নেই। যেমনটি রয়েছে অভিযোগকারী সৌদি আরবের বিরুদ্ধেও। বরং কাতারের মতো ছোট দেশগুলি সৌদি আরবের ইচ্ছার কারণেই সন্ত্রাসবাদে মদদ দিয়েছিল। পশ্চিমা বিশ্বে বিনিয়োগের পাশাপাশি উগ্রবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ কাতারের বিরুদ্ধে অনেক পুরাতন। যুক্তরাজ্যে কাতারের বড় ধরনের বিনিয়োগ থাকলেও উগ্রবাদ প্রসারের শঙ্কায় ফ্রান্স কাতারের বিশাল বিনিয়োগ ফিরিয়ে দেয়।কেবল সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের কারণে একসময়ের নিজের সতীর্থকে তখন সৌদি আরব ছেড়ে দেয়নি। এখন ছেড়ে দেওয়ার পিছনেও রয়েছে আধিপত্যের লড়াই। সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক তেলের খনিটিতে কাতার ও ইরান অংশীদার। কৌশলগত বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্রমশ ইরান ও কাতারকে কাছে নিয়ে আসছে।বিশেষ করে ইরানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার পর কাতার ও ইরানের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতর হচ্ছে। কাতার সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এখন ইরানের রিপাবলিকান গার্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা-সাাৎ করছেন।

 

অন্যদিকে কাতারভিত্তিক বিশ্বখ্যাত আল-জাজিরা সংবাদ মাধ্যমকেও সৌদি আরব হুমকি হিসেবে দেখছে।তাছাড়া কাতার এখন বিশ্ববাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের বড় বড় কোম্পানির অফিস রয়েছে সেখানে। উন্নত বিশ্বের বহু দেশে দেশটির রয়েছে হাজার হাজার ডলারের বিনিয়োগ।ওদিকে সৌদি আরবও নিজের অর্থনীতি সচল রাখার জন্য একটি বাণিজ্যিক নগরী গড়ে তোলার পদপে নিয়েছে।কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার ছেড়ে সৌদি আরবের পরিকল্পিত বাণিজ্যিক পরিবেশে কোম্পানিগুলির যাবার সম্ভাবনা কম। দেশটির রণশীল সামাজিক চরিত্রের কারণেই এটি আরও অসম্ভব।অধিকন্তু, কাতার ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে।এটি তাদের মতো ছোট একটি দেশের জন্য বিশাল গর্বের বিষয়।ফুটবল বিশ্বকাপ উৎসব দেশটির অর্থনীতি ও সামগ্রিক অবস্থান আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে।বোঝা যাচ্ছে, ট্রাম্পের জমানায় মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি নতুন এক সমীকরণে প্রবেশ করতে চলেছে। বহু দশক ধরে চলে আসা মার্কিনিদের মধ্যপ্রাচ্য নীতিটির পরিবর্তন লণীয়। ট্রাম্প আমেরিকার আগেকার রাষ্ট্রপ্রধানদের মতো মধ্যপ্রাচ্য নীতি চালিয়ে নিতে ইচ্ছুক নন। কোনো রাষ্ট্র যদি আমেরিকার সুপার পাওয়ার ব্যবহার করতে চায়, সে েেত্র সেই রাষ্ট্রকে সঠিক অর্থনৈতিক মূল্য দিয়েই তা কিনতে হবে।কেবল বন্ধুত্ব কিংবা বন্ধুকে টিকিয়ে রাখার মূল্যে নৈতিক দায় নিতে ট্রাম্পের আমেরিকা প্রস্তুত নয়।

রায়হান আহমেদ

কলাম লেখক, যুক্তরাজ্য

Leave a comment

Facebook

রূপালী আলো16 hours ago

ইউটিউবে মুক্তি পেল শর্টফিল্ম “দি রেইড” (ভিডিও)

স্বপ্নবাজ শর্ট ফিল্ম
রূপালী আলো16 hours ago

প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা জালিয়াতি নিয়ে শর্টর্ফিল্ম স্বপ্নবাজ ইউটিউবে (ভিডিও সহ )

কবি সৈয়দ আল ফারুক ও শিল্পী নাহিদ নাজিয়া 
সঙ্গীত3 days ago

রোম মাতাবেন কবি সৈয়দ আল ফারুক ও শিল্পী নাহিদ নাজিয়া 

গ্লিটজ5 days ago

নির্মাতা নাসিম সাহনিকের নতুন নাটক

গ্লিটজ5 days ago

বাংলা টিভিতে আম্মাজান ফিল্ম এর ‘ব্রোকেন জোন’

অন্যান্য1 week ago

মাদার টেক্সটাইল মিলসের বার্ষিক দোয়া অনুষ্ঠিত

সঙ্গীত1 week ago

ইউটিউবে শাহাজাহান সোহাগের ‘এলোরে এলো বৈশাখ’

রূপালী আলো2 weeks ago

লুইপার ‘জেন্টলম্যান’ সিয়াম

গ্লিটজ2 weeks ago

বৈশাখে গান ও নাটক নিয়ে নির্মাতা নাসিম সাহনিক

সয়ৈদ আল ফারুকরে ৬০ তম জন্মদনি
জন্মদিন2 weeks ago

কবি সৈয়দ আল ফারুক-এর ৬০তম জন্মদিন আজ

মাসুমা রহমান নাবিলা (Masuma Rahman Nabila)। ছবি : সংগৃহীত
ঘটনা রটনা3 weeks ago

‘আয়নাবাজি’র নায়িকা মাসুমা রহমান নাবিলার বিয়ে ২৬ এপ্রিল

‘মিথ্যে’-র একটি দৃশ্যে সৌমন বোস ও পায়েল দেব (Souman Bose and Payel Deb in Mithye)
অন্যান্য3 weeks ago

বৃষ্টির রাতে বয়ফ্রেন্ড মানেই রোম্যান্টিক?

Bonny Sengupta and Ritwika Sen (ঋত্বিকা ও বনি। ছবি: ইউটিউব থেকে)
টলিউড3 weeks ago

বনি-ঋত্বিকার নতুন ছবির গান একদিনেই দু’লক্ষ

লাভ গেম-এর পর ঝড় তুলেছে ডলির মাইন্ড গেম (ভিডিও)
অন্যান্য1 month ago

লাভ গেম-এর পর ঝড় তুলেছে ডলির মাইন্ড গেম (ভিডিও)

ভিডিও3 months ago

সেলফির কুফল নিয়ে একটি দেখার মতো ভারতীয় শর্টফিল্ম (ভিডিও)

ঘটনা রটনা3 months ago

ইউটিউবে ঝড় তুলেছে যে ডেন্স (ভিডিও)

ওমর সানি এবং তিথির কণ্ঠে মাহফুজ ইমরানের ‌'কথার কথা' (প্রমো)
সঙ্গীত4 months ago

ওমর সানি এবং তিথির কণ্ঠে মাহফুজ ইমরানের ‌’কথার কথা’ (প্রমো)

সালমা কিবরিয়া ও শাদমান কিবরিয়া
সঙ্গীত4 months ago

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান গাইলেন সালমা কিবরিয়া ও শাদমান কিবরিয়া

মাহিমা চৌধুরী (Mahima Chaudhry)। ছবি : ইন্টারনেট
ফিচার6 months ago

এই বলিউড নায়িকা কেন হারিয়ে গেলেন?

'সেক্সি মুভস না করে বরং পোশাক ছিঁড়ে ক্লিভেজ দেখাও'
বলিউড6 months ago

‘সেক্সি মুভস না করে বরং পোশাক ছিঁড়ে ক্লিভেজ দেখাও’

সর্বাধিক পঠিত