Connect with us

গল্প

তোমারেই করিয়াছি জীবনেরও ধ্রুবতারা | লিমন আহমেদ

Published

on

তোমারেই করিয়াছি জীবনেরও ধ্রুবতারা | লিমন আহমেদ

 

– কোনোদিন রোমিওর মত ছেড়ে যাবে না তো?

– যদি তুমি জুলিয়েটের মতো কোনো ভুল না কর। সামনে চোখ রেখে শান্ত গলায় বাক্যটা শেষ করে কাব্য। সে কথা শুনে রূপা নিজের মাথাটা এমন আত্মবিশ্বাসে কাব্যের কাঁধে রাখে যা দেখে মনে হতেই পারে জুলিয়েটের মতো ভুল করতে রাজি নয় সে। ভরসা পেয়ে কাব্য মুখটা ঘুরিয়ে নিয়ে রূপার কপালে চুমু দেয়। ডান হাত দিয়ে গভীরভাবে জড়িয়ে ধরে রূপাকে।

রূপা ইডেন কলেজ থেকে সমাজকল্যাণে মাস্টার্স করেছে মাস সাতেক হবে। রেজাল্ট বরাবরই ভালো তার। তবে এ ক’ মাসেও চাকরির কোনো ব্যবস্থা করতে পারেনি। তবে চেষ্টায় হাল ছাড়েনি সে। তার বিশ্বাস একটা কিছু ব্যবস্থা হবেই। আসলে ব্যবস্থা না হয়ে উপায়ও নেই। শ্বাস কষ্টে ভোগা রোগীর জন্য অক্সিজেন যেমন প্রয়োজন ঠিক তেমনি রূপার জন্য প্রয়োজন একটা চাকরি। কবে কোথায় কখন মিলবে সেই সোনার হরিণ জানা নেই। কিন্তু শিগগিরই একটা কিছু না হলে ভিষণ বিপদে পড়তে হবে তাকে। কারণ কাব্য এখনও পড়াশোনাই শেষ করেনি। এবারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক বিভাগে অনার্স ফাইনাল দিবে। পার্টটাইম চাকরি করছে একটি দৈনিক পত্রিকায়। মাসে সাত-আট হাজার টাকা পকেটে ঢুকে। এ টাকায় রঙিন শহরটাতে একজন কোনোরকমে চলা সম্ভব হলেও দুজনের কোনোভাবেই নয়। তাই কাব্যও পাগলের মত খুঁজছে রূপার জন্য একটা চাকরি। তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিয়ে করার। এই বাজারে প্রেম করা কোনো বিষয় না হলেও দুজন নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রেমিক-প্রেমিকার বিয়ে করাটা রাজ্য জয় করা আলেকজান্ডারের মতোই বীরত্বের ব্যাপার।

আজ মঙ্গলবার। কাব্যের তেমন কাজ নেই। বিকেলের দিকে ফোন দিয়েছিলো রূপাকে দেখা করার জন্য। রূপা আজিমপুরে বড় বোনের বাসায় থাকে। সেখান থেকে এসেছে। প্রথমে আসতেই চায়নি। আজকাল কোনোকিছুতেই কেন জানি আগ্রহ পায় না সে। মনে হয় তার জীবনী শক্তিটা ক্রমেই কমে আসছে। অন্য কেউ হলে হয়তো আসত না। তবে কাব্য বলেই আসতে বাধ্য হয়েছে। ওকে কখনোই ফিরাতে পারেনি সে। সেই প্রথম দিন থেকে আজ অবধি বহুবার চেয়েছে ফিরিয়ে দিতে; কিন্তু পারেনি। রূপাভেবে পায় না কী আছে ছেলেটার মাঝে! কোথায় ওর ক্ষমতা। কেন ওকে দেখলেই, ওর কথা ভাবলেই সম্মোহিত হয়ে যায় সে। অনেক ভেবেছে পরী, আজও খুঁজে পায়নি কাব্যকে ভালোবাসার মতো একটি যুক্তি। গরীবের ঘরের সন্তান। দেখতে আহামরি কিছু নয়। চোখে কানাদের মতো চশমা পড়ে থাকে মোটা ফ্রেমের। উচ্ছ্বাস নেই, দুরন্তপনা নেই। সহজে হাসেও না, আবার কখনো কাঁদতেও দেখেনি কাব্যকে। একটা রোবটের মতো ছেলে। বয়সে ছোট। এমন ছেলের প্রেমে পড়াটা যে কোনো সুন্দরী, বুদ্ধিমতি, শিক্ষিত মেয়ের জন্য বোকামি। সেই বোকামি জেনেশুনেই করেছে পরী। সেটি সে টের পাচ্ছে এখন। রূপাবুঝতে পারে, আজ যদি সমবয়সী কিংবা কোনো ধনীর দুলালের প্রেমিকা হতো সে তবে এই শহরে এভাবে বেকার বসে বসে অন্যের অন্ন নষ্ট করার শাপ সইতে হতো না। তবে কেন? কেন এই কাব্যর প্রতি এত মুগ্ধতা? কেন সে কাব্যকে এড়াতে পারে না? কেন নিজের চেয়েও ছোট এই ছেলেটার লোমশ বুকে মুখ রেখে চোখ বন্ধ করে হারিয়ে যেতে ভীষণ ইচ্ছে করে রূপার? সে জানে না। জানতেও চায় না। সব প্রশ্নের উত্তর জানতে হয় না। কিছু বিষয় ব্যাখ্যার অতীত। রূপার ভালোবাসাটাও তাই। সে কাব্যকে ভালোবেসে নিঃস্ব হয়ে মরে যেতে রাজি। তাই লাজ শরমের মাথা খেয়ে বোনের কাছ থেকে পঞ্চাশ টাকা ধার করে কাব্যর সাথে দেখা করতে চারুকলার সামনে ছবির হাটে হাজির হয়েছে সে। গল্প করছে দুজনে।

সন্ধ্যা নেমেছে। রূপাকে জড়িয়ে বসে আছে কাব্য। চুপচাপ। নিঃশব্দ-নিরবতা। নিরবতা ভাঙে পরী। কাব্যকে জিজ্ঞেস করে, ‘কী ভাবছ সেই কখন থেকে?’

– না, তেমন কিছু না। ভাবছি আমরা কতো বড় বোকামিটা করলাম।
খানিকটা অবাক হয়ে কাব্যের দিকে তাকায় পরী। ‘কিসের বোকামি?’
– তোমার কোনো গতি করতে পারব কি না সেসব না ভেবেই তোমার প্রেমে পড়ে যাওয়াটা আমার বোকামি। আর আমার মতো চালচুলোহীন ছেলের প্রেমে সায় দিয়ে হয়েছে তোমার বোকামি।’
– হঠাৎ আজ এ কথা বলছ কেন?
– তো আর কী বলব বলো। কী দিতে পারছি আমি তোমায়। নিশ্চিন্তে বিয়ে করার শান্তিটুকুও দিতে পারছি না। কী দরকার ছিলো তোমার প্রেমে পড়ে তোমাকে এভাবে কষ্ট দেয়ার। আমার মায়ায় না জড়ালে তো তুমি আমেরিকা প্রবাসী বিয়ে করে জীবনটা দিব্যি রানীর হালে কাটিয়ে দিতে পারতে।
– আর তুমি কী করতে শুনি?
– আমি আবার কী করতাম। ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন আসা কোনো নায়িকার গসিপ লিখতাম। তোমাকে বৈশাখী মেলাতে দেখাটাই কাল হয়েছে। বুঝলে?
– হুমম সে তো বুঝেইছি। এর জন্য তোমার শাস্তিও পাওয়া উচিত। তাই নয়?
– শাস্তি তো আর কম পাচ্ছি না। নতুন করে আর কী দিবে? দাও দেখি।
রূপাতার মাথা কাব্যর কাঁধ থেকে তুলে ওর ঠোঁটে আলতো করে চুমু দেয়। কাব্য অবাক হয়ে তাকিয়ে বলে, ‘এই তোমার শাস্তির নমুনা। এমন শাস্তি পেলে তো জগতের সব ছেলেরাই মেয়েদের কাছে ভুল করবে।’
– করুক না। অতো ঠিক বেঠিক ভেবে কে কী করে ফেলেছে বলো তো। খুঁজ নিয়ে দেখ প্রতিটি ছেলে উত্থানের পিছনেই কোনো না কোনো মেয়ে ইন্ধন দিয়েছে। তুমিও একদিন দেশবরেণ্য সাংবাদিক হবে, লেখক হবে। আর সেই উস্কানিটা আমি দেব। এভাবে।’ কথাটা বলেই কাব্যর গালে চুমু দেয় পরী। কাব্য রূপাকে জড়িয়ে নেয়। রূপাকাব্যের কাঁধে মুখ রেখেই বলতে থাকে, ‘কতোবার বলেছি এত হতাশ হবার কিছু নেই। দুঃখ মানুষের চিরদিন থাকে না। তুমি দেখ, শিগগির আমার একটা চাকরির ব্যবস্থা হয়ে যাবে। আর তোমারো তো আর দুটি বছর। মাস্টার্স শেষ হলেই একটা ভালো কিছু হবে। ততদিন আমি টেনেটুনে নেব। আর তুমি তো চাকরি করছ একটা। সেটাও তো মন্দ নয়। অফিস তো বলেছে নতুন বছরে আরো দশ হাজার করে দেবে। এর মধ্যেই দেখ একটা কিছু গুছিয়ে নেয়া যাবে। সিদ্ধান্ত যখন নিয়েছি ঘর ছাড়ব- এখন ভয় পেয়ে লাভ কী বলো। আরেকটু ধৈর্য ধরো না।’
– ধৈর্যই তো ধরে আছি। যার কিছু করার নেই সে এর বেশি আর কী করতে পারে পরী।’
– এভাবে বলো না লক্ষীটি…
– আমার খুব খারাপ লাগে পরী, কেন? কেন অনেক টাকা হলো না আমার? কেন অনেক ক্ষমতা হলো না আমার তোমার সব কষ্ট মুছে দেয়ার।
বলতে বলতে কাব্যর গলা ধরে আসে। রূপা তাকে বুকে জড়িয়ে নেয়। গভীর মমতা নিয়ে বলে, ‘হবে, একদিন সব হবে আমার রাজাটার। মন খারাপ করো না। যত ঝড় তুফানই আসুক, আমার বোনের স্বামী যেভাবেই আমাকে অপমান করুক আমি তোমাকে ছেড়ে যাব না। প্রয়োজনে বস্তিতে রুম ভাড়া নিয়ে থাকব। তুমি না বলো যে জীবনে সুখে থাকাটাই বড় কথা। তবে কীসের এত চিন্তা করো তুমি। আমি তোমার ছিলাম, তোমারই আছি। আমি শুধু তোমারই জুলিয়েট।’
বলতে বলতে কাব্যকে শক্ত করে জাপটে ধরে পরী। কাব্যও নিজেকে বিলীন করে দেয় তার রূপার বাহুডোরে।

দুই.

সাজানো গোছানো একটা ড্রয়িং রুম। চারপাশের সজ্জায় সুরুচির ছোঁয়া। মন খারাপ হয়ে আসে কাব্যের। মুধ মনে হয় তার নয় কেন? এই ঘর, এই সোফা, এই কার্পেট, দেয়ালের ওইসব রঙিন ক্যানভাস- কেন হয় না তার? এমন একটা প্রাসাদসম বাড়ি তার হলে কী এমন ক্ষতি হতো বিধাতার? সে তবে অনায়াসেই বিয়ে করতে পারত রূপাকে। একটা সুখের সংসার তারও হতে পারতো। এ জগতে অনেকেই চারটা পাঁচটা বিয়ে করছে। আর তার মতো যুবকেরা একটা বিয়ে করার কথাও ভাবতে পারে না। কেন এই বৈষম্য? এইসব ছাইপাশ ভাবতে ভাবতে মাথাটা ধরে আসে কাব্যের। এমন সময় রুমে প্রবেশ করেন নঈম বারী। ইনি দেশের নামকরা নির্মাতা। বিজ্ঞাপনই বেশি বানান। তবে ইদানিং চলচ্চিত্রেও তার প্রভাব তৈরি হয়েছে পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবে। তিনি তৈরি করে ফেলেছেন বিশাল এক সিন্ডিকেট। তার হাত ধরে এদেশে অনেক ছেলে মেয়ে স্টার বনে গেছে। গেল পরশু দিনই তার একটি সাক্ষাতকার নিয়েছিলো কাব্য। সে সূত্রেই পরিচয়টা গাঢ় হয়েছে। কাল রাতে ফেসবুকে আলাপ করে আজ দেখা করতে এসেছে বিশেষ কাজে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা বলার আছে তার। হাসিমুখে নঈম বারী কাব্যকে দেখে হাত বাড়ালেন। কাব্য উঠে হ্যান্ডশেক করে। কুশল বিনিময় শেষে কাজের লোক ডেকে চায়ের কথা বলেন বারী। তারপরই মনযোগ দেন কাব্যর দিকে। খানিকটা অবাক দৃষ্টিতে বললেন, ‘তোমাকে বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছে ছোট ভাই। কী ব্যাপার? গার্লফ্রেন্ড সন্দেহ করছে নাকি আজকাল?’

– না ভাই, ব্যাপার আসলে তা নয়।
কাজের লোক চা দিয়ে যায়। নিজের কাপ পাশে রেখে কাব্যকে আরেক কাপ তুলে দেন বারী। কাব্য ধন্যবাদ দিয়ে চায়ে চুমুক দেয়। বারী একটু নড়ে চড়ে বসে বলেন, ‘বলো তো ছোট ভাই কী তোমার ভেরি ইম্পরটেন্ট কথা?’

খানিক অস্বস্তিবোধ করছে কাব্য। এত বড় মাপের একজন নির্মাতা বারী সাহেব। বাইরে থেকে যতোটাই আন্তরিক দেখাক না কেন, এই লোকের মন্দ স্বভাবের গুজব প্রতিনিয়তই চারপাশে উড়ে বেড়ায়। রাজনৈতিক ছত্রছায়াতে তিনি বেশ কিছু অনৈতিক ব্যবসা করে বেড়ান। নারী ব্যবসা, মানুষ পাচার, মাদক ব্যবসা এমন আরো অনেক কিছুই। সবাই জানে কিন্তু প্রমাণ নেই। তাই কেউ এই লোককে ঘাঁটাতে আসে না। এমন লোকের কাছে কিছু হাত পেতে চাওয়া যায় না। ‘কি হলো কাব্য, কথা বলছো না কেন?

– না মানে, আপনার সাক্ষাতকারটা দেখেছেন?
– ওসব তো আমি পড়ি না ভাই। তুমি কষ্ট কইরা দুই চার কথা লিখছ ধন্যবাদ। এবার বলো দেখি তোমার কী কথা। আমাকে বের হতে হবে।
এবার খানিকটা দম নেয় কাব্য। কথাটা সে বলেই ফেলবে। এসেই যখন পড়েছে বারীর খোয়ারে তখন আর লজ্জা রেখে লাভ কী। সে শান্ত স্বরে বলতে শুরু করে, ‘ওই ইন্টারভিউয়ের দিন আপনি বলছিলেন না ভাই একটা সাবানের বিজ্ঞাপনের জন্য মেয়ে খুঁজছেন?
– হ্যাঁ বলেছিলাম তো।
– আমার কাছে একটা মেয়ে আছে। একবার যদি দেখতেন-
– আজকাল সাংবাদিকরাও এ লাইনে! বাহ! ভালো তো। হা হা হা হা…..। বারীর গলায় তাচ্ছিল্য আর খোঁচার গন্ধ। কিছুটা আঁচ করতে পারছে কাব্য। লোকটা তাকে দালাল ভেবে বসেছে। সে বিব্রতবোধ কাটাতে কথা বলতে শুরু করে, ‘না মানে ভাই বলছিলাম মেয়েটা আমার বান্ধবী। আপনি যেমন মেয়ের কথা বলছিলেন এই বিজ্ঞাপনের জন্য ও দেখতে তেমনই। তাই ভাবছিলাম…..’
কথাটা শেষ করার আগেই সেটা প্রায় কেড়ে নিয়ে যান বারী। তিনি বলেন, ‘এত লজ্জা পাচ্ছো কেন রে ভাই! তুমি একটা আবদার নিয়ে এসেছে সেটা আমি উড়িয়ে দিতে পারি না। শত হলেও বিপদে তোমাদেরকেই পাশে পাই। মেয়েটাকে একবার তবে নিয়ে আসো।’
– ওর ছবি ছিলো আমার কাছে।
– ওগুলো দেখে কী হবে। মেয়েটাকেই দেখতে হবে। তাকে একবার নিয়ে আসো। স্ক্রিন টেস্টও হগয়ে যাবে যদি ওকে ভালো লাগে। আর সেখানে উতরে গেলে তোমার বান্ধবীই আমার নতুন মডেল।’
– সত্যি বলছেন ভাই’
– অবশ্যই সত্যি। কাল পরশু কল দিয়ে চলে এসো। আমি উঠছি। মিটিং আছে। বের হবো। তোমার নাস্তা আসছে। খেয়ে যাও। বলেই উঠে গেলেন নঈম বারী।
কাব্য খুশিতে মনে হচ্ছে অজ্ঞান টজ্ঞান হয়ে যাবে। এত সহজে এই লোক সব মেনে নিয়ে কথা দিবে এটা তার ভাবনাতেও ছিলো না। পকেট থেকে সে মোবাইলটা বের করে রূপাকে কল দেয়। কাব্য আবেগের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। সে এখনই বলে দিতে চায় রূপাকে, ‘জুলিয়েট, জুলিয়েট ও জুলিয়েট। সুদিন বুঝি ঠিকানা পেলে খুঁজে…….

তিন.

আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি রূপাকে। সেই দিনের দেখার পর নঈম বারীর হাত ধরেই রূপাআজ দেশের নামকরা মডেল ও অভিনেত্রী। বিজ্ঞাপন আর চলচ্চিত্রে একচ্ছত্র রাজত্ব তার। ইন্ডাস্ট্রিতে নায়কের মুখ বদল হয়, গেল দেড় বছর ধরে নায়িকা ওই এক পরীই। সাফল্য তার কাছে ধরা দিয়েছে পায়ে লুটিয়ে। সম্প্রতি একটি সাহিত্য নির্ভর চলচ্চিত্রে কাজ করে সেরা অভিনেত্রীর হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেত চলেছে সে। স্বাভাবিকভাবেই আজ আর দুঃখ নেই পরী-কাব্যের। আজ আর রূপাকে দুঃখের কথা শোনায় না কাব্য। তারা এখন সুখী যুগল। মাস্টার্স শেষ করে কাব্যও এখন একটি টিভিতে বিনোদন বিভাগের চিফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করছে। পাশাপাশি নিয়মিতই লিখছে নাটক-গান আর বিজ্ঞাপনের থিম। এই দেড় বছরে তারা একটি ফ্ল্যাট কিনেছে। সেটি সাজিয়েছে নিজেদের মনের মতো করে। কাব্য তার বেশ কিছু চিত্রকর বন্ধুদের দিয়ে নানা রঙের ছবি আঁকিয়েছে। সেগুলো ঝুলিয়েছে ফ্ল্যাটের দেয়ালে। হাতে খুব বেশি সময় নেই। ১৭ দিন বাকি ১৬ ডিসেম্বরের। সেদিন বিজয় দিবসেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। বিয়ে করবে বলে মাস খানেকের জন্য সবরকম শুটিং থেকে ছুটি নিয়ে পরী। এই খবরে পুরো মিডিয়াতে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। কাকে বিয়ে করছেন পরী। সবাই এই মেয়েটিকে শান্ত আর পরিচ্ছন্ন বলেই জানে। দেড় বছর ধরে কাজ করছে, হুট করেই টপে চলে এসেছে তবু কোনো গসিপ শোনা যায়নি তাকে নিয়ে। অথচ হঠাৎ করে এই মেয়ে কিনা বিয়ে করবে বলে একমাসের নির্বাসনে গেল! কে তার পাত্র? কোথায় হবে বিয়ে? কারা থাকবেন সেই বিয়েতে? এইসব নানা কথা। বেশ কাছের সাংবাদিকও জানতে চেয়েছেন পাত্র সম্পর্কে। রূপামুচকি হেসে জানিয়েছে, ‘চাঁদটা উঠুক না, সবাই দেখবেন তো’।

চার.

কাব্য চুপচাপ বসে আছে ধানমন্ডির লেকপাড়ে। রূপাবোরকা পড়ে বসে আছে তার পাশে। দিন আর আগের মতো নেই। ইচ্ছে হলেই এখন আর পথে ঘাটে প্রেম করতে পারে না তারা। রূপাযেখানেই যায় সেখানেই জটলা বেঁধে যায়। এ নিয়ে কাব্যর রাগের শেষ নেই। অভিমানও করে। তখন পরীও বলে, ‘আমার কী দোষ। তুমিই তো আমাকে নিয়ে গিয়েছিলে। এত করে না করলাম শুনলে না। এখন বিখ্যাত প্রেমিকার খ্যাতি সহ্য করতে পারো না কেন?’ ক্ষেপে গিয়ে যখন রূপা এইসব কথা বলে তখন কাব্য মুচকি হেসে জড়িয়ে ধরে। তবে সাতপাঁচ ভাবার সময় আজ নয়। উপায় না থাকলেও কায়দা করেই বের হতে হলো রূপাকে। আজ তাদের বিয়ে। অবশেষে। দীর্ঘ অপেক্ষা, গঞ্জনা, বঞ্চনা, আশা-নিরাশার চোখ রাঙানো, অভাবের ক্যানভাসে অসহায় দুটি মনের ভালোবাসার বন্দি হয়ে চিৎকার করে কান্নার শেষ দিন আজ। আজ তিলে তিলে গড়ে ওঠা ভালোবাসার সিংহাসনে আরোহনের দিন। আজ বিশেষ দিন ভালোবাসার, প্রেমের। তাই নিজেদের প্রিয় স্থান ধানমন্ডির লেকপাড়ে তারা মিলিত হয়েছে। পাজামা-পাঞ্জাবীতে রাজপুত্রের মতো দেখাচ্ছে কাব্যকে। বলাই হয়নি। কাব্যর চোখ দুটি দুর্গা পুত্র কার্তিকের মতোই সুন্দর। কে জানে, হয়তো কাব্যর চোখ জোড়া কার্তিকের চেয়েও বেশি সুন্দর। এই চোখের মায়াতেই ডুবেছিলো পরী। আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি। এবার তো চিরতরের মতো ডুবসাঁতারে যাচ্ছে সে। রূপাঅপলক চেয়ে আছে কাব্যর দিকে।

– কি পরী, কী দেখছ এমন করে?
– আমার রোমিওটাকে। যাকে এত ত্যাগের বিনিময়ে পেতে যাচ্ছি আজ
– সে কতো ত্যাগি শুনি
– অনেক রোমিও। তার কোনে পরিমাপ হবে না। কেউ জানবেও কোনোদিন সেই ত্যাগের ওজন কিংবা বিশালতা।
– খুব সিরিয়াস দেখাচ্ছে তোমাকে। ভালো লাগছে না পরী
– সরি। তবে খুব সুন্দর দেখাচ্ছে তোমাকে। জানো, আমার আজ খুব ইচ্ছে করছে মহীলা হিমু হয়ে বনে চলে যাই। তোমার হাত ধরে গভীর বন দিয়ে আমি হাঁটব আর হাঁটব। আমাদের মাথার উপর থাকবে ঝলমলে মায়াবী জোছনা।’
– চলো তবে বনে চলে যাই। বনেই হবে আমাদের প্রথম মধু রাত
– থাক। এতসব লোক যে দাওয়াত করেছ তাদের কে খাওয়াবে শুনি। পাগলামি করে কি পার পাবে ভেবেছ
– সেও ঠিক। থাক তবে। অন্য কোনো সময় যাওয়া যাবে।
– তাই হবে। আমি যে তোমাকে পেয়েছি এই শত শুকরিয়া বিধাতার কাছে।
– আচ্ছা আমি পাইনি তোমাকে?
– আমাকে তুমি না পেলে তুমি আমার কই?
– এই, সাহিত্যটা আমার বিষয় তোমার কিন্তু অভিনয়। হা হা হা’
দুজনে দুষ্টুমি করতে করতে জোরে হেসে উঠে। কাব্য রূপার দুটি হাত নিজের দুই হাতে টেনে নেয়। লেকের জলের দিকে দৃষ্টি দিয়ে কথা চালায় সে।
– জান পরী, ভালোবেসেছিলাম বলে সবসময় প্রার্থনা ছিলো তোমাকে পাওয়ার। কিন্তু আমি বিশ্বাস করতে পারিনি তোমার মত লক্ষী, সুন্দর আর অদ্ভূত রকমের মমতাময়ী একটা মেয়ে বউ হবে আমার।
– কেমন মেয়ে গো? খুব বাজে বুঝি’- মজা করার ভঙিতে বলে পরী। তারপরই নিজের মাথাটা এলিয়ে দেয় কাব্যের কাঁধে। একহাতে রূপাকে নিজের সাথে লেপ্টে নেয় কাব্য। আর অন্য হাতে একটা উড়ন্ত চুমু দেয় আকাশের দিকে। তাই দেখে অভিমানের স্বরে রূপাবলে উঠে, ‘এটা কী হলো! আমি তো তোমার পাশে বসা। উপরে চুমু দিলে কাকে?’
– ইশ্বরকে। আজ তোমাকে পাওয়ার সাথে সাথে তাকেও আমি পেয়েছি জুলিয়েট। তোমাকে ভালোবাসার পর থেকে সবকিছুই আমার বৈরী ছিলো। বাবা-মা হারা সন্তানকে ঈশ্বর কতো সম্মানিত করেছেন দেখ। আশ্রয় দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন। তোমার মতো মাথার মুকুট দিয়েছেন। তাকে কী একটা চুমু দেয়া উচিত নয় বলো?’

প্রশ্নের জবাবে কোনো কথা বলে না পরী। সে চুপচাপ চেয়ে থাকে কাব্যর দিকে। কাব্যর দৃষ্টি আকাশে। তার চোখে জল চিকচিক করছে চাঁদের আলোয়। ওর জলটা মুছে দেয়া দরকার। কিন্তু রূপার একদম ইচ্ছে করছে না। কাঁদুক। মাঝেমধ্যে কান্নার প্রয়োজন আছে। ওকে অনেক কাঁদতে হবে। সেটার অভ্যেস করা উচিত। রূপাঅসহায়ের মতো যেন গুটিয়ে নেয় নিজেকে। পরক্ষণেই টের পায় তাকে পেঁচিয়ে ধরছে কাব্যর দুটি হাত। রূপাতাড়া দেয় বাসায় যাবার। রাত তো বাড়ছে। অতিথিরা নিশ্চয়ই এবার আসতে শুরু করবেন। তাদের ৯টা থেকে সময় দেয়া।

পাঁচ.

এই প্রথম একই বিছানাতে ঘুমাতে গেলো রূপা আর কাব্য। দীর্ঘ ছয় বছরের জীবনে দুজন দুজনার মাঝে লেপ্টে গিয়েছিল অগুনিতবার। কিন্তু একই ঘরে, একই বিছানায় এই প্রথম। আর হবেই বা না কেন আজ যে তাদের ফুলশয্যা।

অপলক চেয়ে থাকে কাব্য-রূপার ঘুমন্ত মুখের দিকে। মমতার পরশ দিয়ে হাত রাখে রূপার নরম গালে। হাতের স্পর্শ পেয়ে একটুও নড়েনা রূপা। শুধু শুধু নিজের দুটি হাত দিয়ে কাব্য’র হাতটাকে গালে আরও শক্ত করে চেপে ধরে। মুচকী হাসে কাব্য। বাম হাতে গালে এসে পড়া রূপার চুলগুলো সরিয়ে দেয় সে। ঘুমুচ্ছে, ঘুমুক। সারাদিনে কম ধকল যায়নি। রান্নাবান্না, হৈচৈ, ছুটাছুটি। মেহমান যে খুব বেশি ছিল তা নয়। কাব্যের কয়েকজন বন্ধু, রূপার কলেজের চার বান্ধবী আর তার বড় বোন, দুলাভাই-বাচ্চারা। সবাই খুব অবাক হয়েছে এদের বিয়ের কথা শুনে। রূপার বোনকে অবশ্য আগে কিছুই জানায়নি তারা। বাসায় এসে বিয়ের কথা শুনেই একগাধা প্রশ্ন করে বসলেন চরম বিস্ময়ে ‘বিয়ে, তোরা? কখন? কোথায়? কিভাবে? এতগুলো প্রশ্নের জবাবে রূপা কেবল জানিয়েছিল বিয়েটা হয়েছে এটাই সত্যি। আর কথা বাড়ায়নি বড় বোন। রূপার দুলাভাইয়ের কথায় বাচ্চাগুলো যখন কাব্যকে খালু বলে ডাকছিল খুব লজ্জা হচ্ছিলো তার।

সবাইকে বিদায় দিয়েই কাব্য জড়িয়ে ধরেছিল রূপাকে। রূপা তখন ছাড়ো, ছাড়ো, বলে চিৎকার দিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে খাবার টেবিল গোছাতে গিয়েছিল।ছোফায় বসেছিল কাব্য। মনটা আনন্দে ভড়ে উঠেছিল তার। সত্যিই কারও স্বামিহয়ে গেলো সে। আর রূপাকেও খুব লাগছিল গৃহবধূ হিসেবে।

রাত প্রায় দেড়টা বাজে। কাব্য খাটে হেলান দিয়ে শুয়েছিল রূপা এসে সামনে দাড়াতেই তাকে টেনে কোলে এনে পাগলের মতো চুমুতে শুরু করেছিল কাব্য। এবার আর নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে চিৎকার করেনি রূপা। শুধু মাত্র কপট রাগী সুরে একবার রূপা বলেছিল ভাল হবে না বলছি। কে শুনে কার কথা। কাব্য ঠোঁট চালিয়েছিল রূপার কপাল, গলা, চোখ, গাল আর ঠোঁটে। চূড়ান্ত ভালবাসার অফার করতেই একদম একলাফে ওঠে বসেছিল রূপা। নিজের কাপড় গুছাতে গুছাতে রূপা বলেছিল আজ নয়। বলেই চলে গিয়েছিল বাথরুমে। অবাক হয়ে বিছানায় বোকার মতো হা করে বসেছিল কাব্য। বাথরুমে অনেকক্ষন সময় নিয়েছিল রূপা। প্রায় ৪০ মনিটের মত। যখন সে ফিরল চেহারাটা কেমন জানি ফুলা ফুলা লাগছিল। এসে নিজেই বসল কাব্যর পাশে। কাব্যর একটা হাত নিজের হাতে নিয়ে হেসে হেসে বলছিল কথাগুলো।

কাব্য, আমাদের হিসেবে ভুল হয়েছে। আজ আমাবস্যার রাত। আমাদের বিয়ে হয়েছে জোছনা জ্বলা রাতে। বাসরও হবে জোছনা জ্বলা রাতে। আমরা অনেক ধৈর্য ধরেছি। বল তুমি, ধরেছিনা? আর কয়টা দিন ধৈর্য ধর। আমারও খুব ইচ্ছে করে তোমার কাছে নিজেকে দেউলিয়া করে দিতে। অনেক সয়েছি তোমার বিরহ। আর পারিনা। তোমার ভালোবাসা আমিও সিক্ত হতে চাই। শুধু কয়েকটা দিন ধৈর্য ধর। বল কাব্য রাগ করেছ তুমি?
রূপার কথাগুলো শুনে কাব্য মুচকি হেসে জড়িয়ে ধরেছিল রূপাকে। অনেকক্ষণ কেঁদেছিল দুজন। একদম বাচ্চাদের মতো। দুজনকে দুজনের পাবার জন্য যত প্রতীক্ষা, সাধনা, আত্মহত্যা আর যন্ত্রনা ছিল সব ভাসিয়ে দিয়েছিল তারা কান্নার জলে। কান্না শেষে রূপা কাব্যর দুটি হাত তার হাতে নিয়ে কপালে ভাজ তুলে ডেকেছিল কাব্যকে। কাব্য জানতে চেয়েছিল, কিছু বলবে? কিছুক্ষন চুপ করে থেকে রূপা না সূচক মাথা নেড়েছিল। অথচ রূপার চেহারায় খুব গুরুত্বপূর্ন কিছু বলবার মতো ভাব ছিল। এমনকি যখন রূপা বিছানায় গেল তখন তাকে খুব বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। কিছু বুঝে উঠতে পারেনি কাব্য।

কাব্য বলেছিল অন্য ঘরে ঘুমাতে। কিন্তু রূপা বলেছে না, একই বিছানায় থাকবে তারা। জোছনা রাত পর্যন্ত সবই হবে শুধু এটূকু ছাড়া। দুষ্টূমি করে কাব্য বলেছিল, মাঝ রাতে যদি ভুল করে ঘুমের ঘোরে ওটুকু হয়ে যায়। রূপা বলেছিল খুব বিশ্বাস নিয়ে, না হবে না।
তাহলে একটা প্রাচীর রাখ মাঝখানে। না, বলে কাব্যর কান টেনে বলেছিল ‘যারা কোন মানুষের সাক্ষী ছাড়া বিয়ে করতে পারে, নিজেদের জীবন, সম্পর্ক, সুখ ঈশ্বরের কাছে বন্ধক দিয়ে শুধু বিশ্বাসে স্বামী স্ত্রী হতে পারে তাদের বিশ্বাসের মাঝকাহ্নে কাপড়-তুলার বালিশের কোন প্রয়োজন নেই।

কথাগুলো বলেই গায়ে চাদর টেনে শুয়ে পড়েছিল রূপা। আর শুয়েই ঘুম।
কাব্য ঘড়ি দেখে। রাত পাঁচটা বাজতে চলল। সে বিছানা থেকে নেমে বাথরুমে যায়। ফিরে লাইট অফ করে নিজেকে ঢেকে দেয় চাদরে। যে চাদর ঢেকেছে রূপাকে।
ছয়.
রাতের শেষ হয়।
সকাল নামে।

ঘুম ভাঙ্গে কাব্য’র। সে রূপার ওপর হাত রাখে। হাত পড়ে খালি বিছানায়। রূপা নেই। চমকে ওঠে সে। কই গেলো? বাথরুমে বা রান্না ঘরে হবে হয়তো। এই ভেবে মিষ্টি হাসে কাব্য। পাশ ফিরতে ফিরতে চিৎকার করে ডাকে রূপাকে। আর ডাকটা দিয়েই থমকে যায় কাব্য। এই থমকানোর কোন ভাষা নেই, বর্ননা নেই। কেবল ঠান্ডা, খুব ঠান্ডা শীতল বাতাস অনুভব করে কাব্য তার রক্তে। সে ধীর গতিতে চাদর সরায়। আস্তে আস্তে বিছানা থেকে নামে সে। এগিয়ে যায় দেয়ালের সাথে ঠেস দেয়া ইজি চেয়ারের দিকে। সেখানে হেলান দিয়ে বসে আছে রূপা। তার চোখ দুটী আধো খোলা আধো বন্ধ। রূপার পায়ের সামনে হাটু ভেঙ্গে বসে কাব্য। মৃদু স্বরে ডাকে, রূপা, রূপা শুঞ্ছ তুমি?

কোনও সারা নেই রুপার। কাব্য কিছুক্ষন চেয়ে থাকে রুপার মুখের দিকে। লাবন্যমাখা মুখটার ঠোঁটের বা পাশে জমে আছে কিছু সাদা ফেনা। বেয়ে বেয়ে পড়ছে গাল হয়ে গলা পর্যন্ত। কাব্য এবার একটু নড়ে বসে। রূপার হাত ধরে টান দেয় সাথে সাথেই রূপার পুরো শরীরটা এসে পড়ে যায় কাব্যর ওপর। ভার সহ্য না করতে পেরে মেঝেতে পড়ে যায় কাব্য। রূপার সারা শরীর পড়ে আছে মেঝেতে। রূপা আছে, তার হাত, পা, মুখ, চোখ, ঠোঁট সবই আছে। তবে নিথর দেহের অঙ্গ এরা। কারণ খুঁজে না পেলেও বিষয়টা বুঝতে বাকী থাকে না কাব্যের। সে মেঝেতে দুই হাতে ভর দিয়ে মুখ নামায় রূপার মুখের দিকে। অপলক চেয়ে থাকে কাব্য। তার চোখের জল বেয়ে পড়ে রূপার ঠোঁটে। একদম তিলটার ওপর। হঠাৎ আকাশ ফাটিয়ে চিৎকার করে ওঠে কাব্য। ‘রূপা, রূপা, ও রূপা…’! কেন তুমি সত্যিই জুলিয়েট হতে গেলে? কেন রূপা, কেন?’

কাব্যর চিৎকার আকাশ ভেদ করতে পারে না। দশতলার ফ্ল্যাট থেকে এই চিৎকার বাহিরে যাবার ক্ষমতা রাখেনা। তবে নিশ্চিত, এই চিৎকারে ভয় পেয়ে মৃত্যুদূতও ছুটতে থাকে ঈশ্বরের কাছে নিরাপদ আশ্রয়ের প্রার্থনায়। প্রেমিকের বিরহের আর্তনাদের চেয়ে ভারী আর কোনো কিছু নেই।

প্রিয়তমেষু,
যখন তুমি পড়ছ, তখন তুমি আমি বহু দুরের মানুষ। তোমার সামনে থেকেও আমি অন্যলোকের মানুষ। তাতে কি? দূরত্ব, ব্যবধান কখনও আমাদের ভালবাসাকে গ্রাস করতে পারবেনা। আজও আমি তোমার, চিরদিন তোমারই। আমি তোমাকে অনেক অনেক ভালবাসি কাব্য।

আমি চেষ্টার ত্রুটি রাখিনি। কিন্তু আমি পারিনি। হেরেছি জীবনের কাছে, তোমার অবিশ্বাস্য অফুরন্ত ভালোবাসার কাছে। বিশ্বাস কর, আমি তোমাকে পাবার জন্য অনেক কেঁদেছি। কাব্য, আমি শুধু তোমারই হতে চেয়েছিলাম। যখন আমাদের অভাব ছিল তখন আমরা আমাদেরই ছিলাম। আজ যখন আমাদের অভাব মিটেছে তখন হঠাত আবিষ্কার করলাম, আমি আর তোমার নই। আমি কোন দিনই তোমার হতেও পারবনা। আমি হয়ে গেছি অন্য অনেকের। নঈম বারী, লস্কর পাটোয়ারি, গাজী কিসলু… এমনই আরও কতক নাম। কাব্য আমাকে তুমি ভুল বুঝনা। তোমাকে পাবার নেশায় আমি এতটাই মত্ত ছিলাম যে, আমি বুঝতে পারিনি কি করতে চলেছি। তোমাকে নিয়ে নিয়ে সুখের ঘর বাঁধতে গিয়ে বাজি ধরেছিলাম নিজের শরীরটাকে। জিতেও ছিলাম আমি। কিন্তু পরাজিত হতে হয়েছে তোমার পবিত্র ভালবাসার কাছে। কাব্য, আমার শুধু মনে হয়েছে তোমার মতো প্রেমিকের আরাধনা হবার যোগ্যতা আমার নেই। আমি নষ্টা, ভ্রষ্টা। আভিজাত্যে মুড়ানো আমিও সমাজের পতিত নারী। আমার আজ কোন ক্ষমতা নেই ভালবাসার, সাহস নেই কারও স্ত্রী হবার।
তবুও আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম কাব্য। শুধু তোমার জন্য। চেয়েছিলাম তোমাকে সব বলে দিব। তোমাকে আমার খুব ভয় করে কাব্য। আমি তোমাকে ভীষন ভয় পাই। তুমিই বল-মনের ভিত্র এমন দ্বন্দ্ব নিয়ে কখনও কাউকে চাওয়া যায়, পাওয়া যায়? তাই, তাই…
আমার খুব কষ্ট হচ্ছে কাব্য। ইচ্ছা করছে চিৎকার করে কাঁদি। আমি তাও পারিনি। তাতে যে তোমার ঘুম ভেঙে যাবে। আহা! কি সুন্দর দেখাচ্ছে তোমাকে। আমার পরম ভাগ্য, তোমাকে আমি ভালবেসেছি, বুকে ধরেছি। ইচ্ছে করছে তোমাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকি। খুব কষ্ট করছে কাব্য। খু-উ-ব……

রোমিও, রোমিও, ও রোমিও ভাল থেক তুমি। বিশ্বাস রেখ, আমার জন্ম, আমার ধর্ম, ভালোবাসা আর যত আত্মহত্যা সবই তোমার জন্য। তোমাকেই জীবনের ধ্রুবতারা করে ভেবেছি, চেয়েছি। তোমার অপেক্ষাতে আছি। তাড়াতাড়ি চলে এসো। তোমার বিরহ ওপারেও সইতে পারবনা।
তোমার রূপা

রূপার ডান হাতের মুটিতে পাওয়া চিঠিটি পড়ে শেষ করে কাব্য। দুই চোখ ক্ষোভে বেরিয়ে আসতে চাইছে তার। শরীরে সর্ব শক্তির প্রয়োগে রূপার চিঠিটা হাতের মুঠোতে দলা পাকাতে থাকে সে। চিৎকার করে ওঠে ক্ষিপ্ত বাঘের মতো, ‘ইউ আর চিটার’। কথাটা কাব্য কাকে বলে ঠিক ঠাউরানো যায় না। রূপাকে? নাকি নঈম বারীকে?

Comments
জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল। ছবি : সংগৃহীত
অন্যান্য3 weeks ago

বিতর্কিত জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলের কিছু দুর্লভ ছবি

ঢালিউড2 weeks ago

বাংলা সিনেমার সর্বকালের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে ঢাকা অ্যাটাক

জান্নাতুল নাঈম
অন্যান্য3 weeks ago

জান্নাতুল নাঈমকে মেয়ে বলে এখন স্বীকার করেন না তার বাবা

যে চার ধরনের মিলন ইসলামে নিষিদ্ধ
রূপালী আলো2 weeks ago

যে চার ধরনের মিলন ইসলামে নিষিদ্ধ

অপু বিশ্বাস ও আব্রাম খান জয়। ছবি : সংগৃহীত
ঢালিউড3 weeks ago

কার্ডে জয়ের বাবা হিসেবে শাকিবের নাম ও নাম্বার দেওয়া হয়েছে : অপু বিশ্বাস

জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল ও শবনম ফারিয়া। ছবি : সংগৃহীত
অন্যান্য2 weeks ago

জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলকে নিয়ে যে কথা বলে আলোচনায় শবনম ফারিয়া

সুহানা খান
বলিউড2 weeks ago

শাহরুখ কন্যা সুহানার বিকিনি ছবি ভাইরাল

ছবিটিতে লুকিয়ে আছেন একজন নগ্ন মডেল
রকমারি3 weeks ago

ছবিটিতে লুকিয়ে আছেন একজন নগ্ন মডেল

অপু বিশ্বাস ও আব্রাম খান জয়। ছবি : সংগৃহীত
ঢালিউড3 weeks ago

ছবিঘরে দেখুন অপুপুত্র আব্রামের প্রথম জন্মদিনের পার্টি

জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল। ছবি : সংগৃহীত
অন্যান্য2 weeks ago

পুরুষের সুন্দরী লাগে, তাই আমেনারা ‘এভ্রিল’ হয়

Advertisement

বিনোদনের সর্বশেষ খবর

শুভশ্রী গাঙ্গুলী। ছবি : টুইটারের সৌজন্যে শুভশ্রী গাঙ্গুলী। ছবি : টুইটারের সৌজন্যে
টলিউড58 mins ago

শুভশ্রীর নতুন বার্তা

বিতর্ক এবং শুভশ্রী গাঙ্গুলী যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। সাম্প্রতিক ট্রেন্ড সে ইঙ্গিতই দেয়। রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে প্রেম-প্রেম খেলা পানি ঘোলা...

ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। ছবি : ইন্টারনেট ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। ছবি : ইন্টারনেট
বলিউড2 hours ago

আলোর উৎসবে অন্ধকারে ঐশ্বরিয়া

হিন্দুদের কাছে, দীপাবলি (আলোর উৎসব) একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এই দিন সব হিন্দুরা বাড়িতে নানা ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। বাংলা, আসাম,...

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। ছবি : সংগৃহীত মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। ছবি : সংগৃহীত
ঘটনা রটনা4 hours ago

প্যালেস্টাইন অভিনেতাকে নিয়ে ফারুকীর নতুন ছবি ‘স্যাটারডে আফটারনুন’

বাংলা চলচ্চিত্রের শারীরিক ভাষায় মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এনেছেন ভিন্ন রুপ। এবার তিনি আন্তজার্তিক বিনোদন পত্রিকা ভ্যারাইটিতে নতুন সিনেমার খবর নিয়ে...

মডেল-অভিনেত্রী মেঘলা মিজান। ছবি : সংগৃহীত মডেল-অভিনেত্রী মেঘলা মিজান। ছবি : সংগৃহীত
ঘটনা রটনা6 hours ago

‘গিভ অ্যান্ড টেক’ করবেন না তাই মিডিয়া ছাড়ছেন মেঘলা মিজান

অভিনয় জগতে ‘গিভ অ্যান্ড টেক’ ছাড়া কিছু করা যায় না। আর আমি এভাবে কাজ করতে চাই না। আমি মিডিয়া একেবারে...

চিত্রনায়িকা অধরা খান। ছবি : সংগৃহীত চিত্রনায়িকা অধরা খান। ছবি : সংগৃহীত
ঢালিউড6 hours ago

আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আসছেন গ্ল্যামার গার্ল অধরা খান

রোহিঙ্গা জনগণদেরকে “পৃথিবীতে সবচেয়ে কম প্রয়োজন বোধ করা” এবং “সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের মধ্যে অন্যতম” বর্ণনা করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের মুক্তভাবে...

মাহিয়া মাহি। ছবি : সংগৃহীত মাহিয়া মাহি। ছবি : সংগৃহীত
ঘটনা রটনা6 hours ago

ফালতু নিয়ে বেকায়দায় মাহিয়া মাহি

‌’ঢাকা অ্যাটাক’ তুমুল আলোচিত একটি ছবি। কিন্তু নায়িকা হিসেবে মাহিয়া মাহি নামের প্রতি খুব একটা সুবিচার করতে পারেননি। যতটা আলোচিত...

আরো দুটি ছবিতে মুন্না আরো দুটি ছবিতে মুন্না
ঢালিউড20 hours ago

আরো দুটি ছবিতে মুন্না

মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মুন্না চলচ্চিত্রের প্রতি ভালোবাসা থেকে নির্মান করেছেন ছবি। “ধূসর কুয়াশা” নামে তার প্রথম ছবি এতে তিনি গল্প ভাবনার...

নতুন পরিচয়ে প্লাবন কোরেশী নতুন পরিচয়ে প্লাবন কোরেশী
অন্যান্য21 hours ago

নতুন পরিচয়ে প্লাবন কোরেশী

সবাই তাকে একজন গীতিকবি ও সুরকার হিসেবেই চেনেন। গান লিখছেন প্রায় দুইযুগেরও বেশি সময় ধরে। তার লেখা গানে কণ্ঠ দিয়ে...

সর্বাধিক পঠিত