Connect with us

গল্প

শেকড়হীন | সালেহ মুজাহিদ

Published

on

শেকড়হীন | সালেহ মুজাহিদ
লালুকে সকালে বা সন্ধ্যায় এমনকি দিনের অন্যান্য সময়েও পাওয়া যায় আজিমপুর কলোনির ১৭০ নং বিল্ডিঙয়ের সামনে জব্বার মিয়াঁর দোকানের পাশে সিমেন্টের পাটাতনে বসা। একমনে একটা গাছের ডালের লাঠিকে কাচের টুকরো বা শিরিশ কাগজ দিয়ে পরিচর্যায় মগ্ন।
লালুর ডান হাত আর ডান পাটা দুর্বল। পা টেনে টেনে হাঁটে। হাত শরীরে ল্যার ল্যার করে ঝুলতে থাকে। হাঁটার সময় ভঙ্গিটা হয় অদ্ভুত। পুরো কলোনির বাচ্চারা ওকে ভেঙায়, ঢিল মারে। ও উত্তেজিত হয়ে পড়ে, বাচ্চারা ভীষণ খুশি হয়। বাচ্চারা চিৎকার করে-
-পাগলা তোর পাগলি কৈ?
লালু খেপে গিয়ে বাচ্চাদের পেছন পেছন দৌড়ে যায়। বাচ্চারা সব পালিয়ে বাঁচে। লালু এক পা হেঁচড়ে আর এক হাত ঝুলিয়ে উটের মত ভঙ্গিতে বাচ্চাদের ধাওয়া করে, বাচ্চারা জানে যে সে কনুই তাদেরকে ধরতে পারবে না।
লালু কবে কখন আজিমপুর কলোনিতে এসেছিল কেউ ঠিক মনে করতে পারে না। ওর তো মনে করতে পারার প্রশ্নই ওঠে না। কারণ সে তো মানসিক প্রতিবন্ধী।
সারাদিন বসে বসে কি সব ভাবে আর নিজের সাথে নিজেই কথা বলে। অনেক কথাই কেউ বুঝে উঠতে পারে না। বাড়ি কোথায় জিজ্ঞাসা করলে সে শুধু বোলে, গঙ্গাচড়া।
আর মাঝে মধ্যেই দেখা যায় যে সে কলোনির মধ্য দিয়ে হেঁটে টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে। কারও কাছে সে কখনো হাত পাতে না। কেউ টাকা সাধলেও সহসা সে নিতে চায় না। মাঝে মধ্যে কেউ কেউ ওর কাছ থেকে লাঠি কিনে নেয়। খুশি হয়ে যে যা দেয় তাতে ওর আনন্দের সীমা থাকে না। পেয়ারার ডাল কেটে এনে সে আরেকটি লাঠি বানানো শুরু করে মহা আনন্দে।
কলোনির অনেক বাসা থেকে ওকে মাঝে মধ্যে খাবার দেয়। আর জব্বারের দোকানে প্রতিদিনের পাউরুটি, চা, বিস্কুট ওর জন্য বরাদ্দ। বিভিন্ন বেলায় ওদের খাবার থেকে ওকে খাবারও দেয় তারা।
অনেক বছর আগে কোন এক সকালে দোকান খুলতে গিয়ে কিশোর লালুকে দোকানের সামনে ঘুমিয়ে থাকতে দেখেছিল জব্বার। ওকে তাড়িয়ে দেয় জব্বার মিয়া। এরাই এক দিন দুইদিন দোকানে ল রাখে তারপর চুরি করে, জব্বার মিয়া ভাবে। ও একটু দূরে এগিয়ে গেলে ভালো করে ওর দিকে তাকিয়ে দেখে সে, গায়ে শতচ্ছিন্ন ফিন ফিনে পাতলা জামা। জাঁকিয়ে বসা শীতের সকালে ছেলেটা কাঁপছে।
এইদিকে আয়। জব্বার ছেলেটাকে ডাকে।
– নাম কি তোর?
– লালু।
– বাড়ি কৈ?
-গঙ্গাচড়া
-বাপ মা কৈ?
– জানিনা।
– তুই এইখানে ক্যা? বাপ মার কাছে না ক্যা? কতদিন ঢাকায়? একটানে অনেকগুলো প্রশ্ন করে জব্বার।
– জানিনা?
-আইচ্ছা।
– নে কলা খা। কলা ছিড়ে দিল জব্বার। রুটি খা। একটা বন রুটি প্যাকেট থেকে বের করে দিল।
অনেক আগের সেই সকাল, সম্ভবত তার ক’মাস আগেই প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে চট্টগ্রামে হত্যা করা হয়েছিল। একটানা কারফিউ হত রাতগুলোতে। প্রচুর পুলিশ আসত সেই সময়। মাঝে মধ্যে একে তাকে ধরে নিয়ে যেত। যদিও জব্বার ঠিক নিশ্চিত নয় সময়টা। সে অনুমান করে মাত্র।
লালু যখন আজিমপুর আসে তখন সে মধ্য কৈশোরে। শৈশবের কোন এক সময়ে সে সংসারচ্যুত হয়। বাবা মা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়। হতে পারে ওর বাবা মায়ের বিচ্ছেদ হয়েছিল। বাবা আবারও বিয়ে করেছিল। সৎ মায়ের সংসারে মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধি লালু হয়ত টিকতে পারেনি। মঙ্গা পীড়িত অভাবের সংসারে প্রতিবন্ধি শিশু লালুকে তারা হয়ত ত্যাগ করে কোন বাস বা ট্রেন ষ্টেশনে। তারপর কত ঘাট ঘুরে সে জব্বার মিয়াঁর কল্যাণে আজিমপুর কলোনিতে থিতু হয়।
লালুর মত আরও কিছু ভাসমান মানুষ কলোনির বিল্ডিঙগুলোর সিড়িঘরে বাস করে। যাদেরকে কলোনির বাসিন্দারা সংগবদ্ধ হয়ে উঠিয়ে দেয়। পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে খেদিয়ে দেয়। এরা সব শেকড়হীন মানুষ। আবার ফেরত আসে। বিশেষত বিভিন্ন বয়সের নারীরা তাদের সামান্য কিছু সম্বল নিয়ে থাকে ওই সিঁড়িঘরগুলোতে। এদের মধ্যে একটি মেয়ে মরজিনা। মরজিনা বাক প্রতিবন্ধী, গায়ের রঙ মিসমিশে কালো। ওর পীঠে একটা কুজ।
মরজিনার বাবা মা কোথায় তার জানা নেই। অনেক ছোট থেকেই সে ঢাকা শহরে, পথে পথে ঘুরে ভিক্ষা করত। মেয়ে শিশু হিসাবে ওকে রা করার জন্য কোন গুরুজন ছিল না। যখন ও একটু বড় হতে শুরু করলো, শরীরে যখন তা স্পষ্ট প্রকাশিত হতে লাগল, তখন থেকে ও লক্ষ্য করল আশপাশের পুরুষদের দৃষ্টি বদলে যাচ্ছে। এক রাতে এক বৃদ্ধা যাকে সে খালা ডাকত সে ওকে এক বুড়া বেটার কাছে রাত কাটানোর জন্য রেখে আসে। ও তখন বুঝে উঠতে পারে নাই যে কেন এই বুইড়া বেটার সাথে ওকে রাতে ঘুমাতে হবে। ওই বুড়া ওকে সারারাত তক্ষবিত করেছিল। কান্না কাটি করেও ছাড়া পায়নি। অনেক দিন জ্বর ছিল। মরার মত পড়ে ছিল। চরম অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। রক্ত বন্ধ হতেও অনেক সময় লেগে গিয়েছিল। অনেকদিন ঠিকমত খাওয়া দাওয়াও করতে পারেনি ও। এখন এই ব্যাপারগুলো অভ্যাস হয়ে গেছে ওর। অসুবিধা হয়না আর।
এই ঘটনার পরে ওই খালার কাছ থেকে পালিয়ে যায় ও। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে আজিমপুর কলোনিতে থিতু হয়েছে সে। ও কালো, বোবা ও কুঁজো বলে কেউ ওকে নিতেও চায় না। ফলে প্রায়ই দু’এক বেলা না খেয়ে থাকতে হয় তাকে।
একদিন কলোনির পুকুরে গোসল সেরে পাড়ে উঠছিল। কাপড় চোপড় ভেজা, শরীরে লেপ্টে আছে। হটাত ও নারীসুলভ ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় দিয়ে বুঝতে পারে কেউ একজন ওর দিকে তাকিয়ে আছে। মরজিনা ঘাড় না ঘুরিয়েই চোখের কোনা দিয়ে দেখল যে লালু পাগলা ওর দিকে অপলক তাকিয়ে। ও লজ্জা পেয়ে যায়। ও ভাবে,  পুরুষ ওর শরীরে নির্লজ্জ দৃষ্টি দিলে ওর ঘেন্না লাগে। ওর তো কোনোই লজ্জা লাগে না। আজ হঠাৎ কেন এমন লজ্জা লেগে উঠলো।
ওর মনে পড়ে গেল বেশ কিছুদিন আগের কথা। একা পেয়ে বিল্ডিঙয়ের চার তলার বাসিন্দা বিল্টু নামে লুচ্চা এক ছোকরা ওকে চেপে ধরে সিঁড়ির গোঁড়ায়।
ও গোঙাতে লাগলো।
বিল্টু জোর করে ওকে চুমু খেতে চায়। বলে – তুই এত মানুষরে দেছ। আমি একটু ধরলে, চুমা খাইলে তি কি?
ও গোঙাতে গোঙাতে ধ্বস্তাধস্তি করে। কামড়ে দেয় বিল্টুকে।
বিল্টু চিৎকার করে। আরে আরে আমাদের বিল্ডিঙয়ের নীচে থাকস। একটু ট্যাক্স দিবি না?
মরজিনা জোর করে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
রাতে এক অল্প বয়সী ছেলে বয়স ১৭/১৮ হবে। ছেলেটা ওকে নিয়ে বিল্ডিঙয়ের পেছনে ঝোপ ঝাড়ের আড়ালে যায়। এই ছেলেটা প্রায়ই আসে ওর কাছে। টাকাও দেয় বেশ ভালো।
ওরা যখন বেশ নিবিষ্ট অবস্থায়, ঝোপের ওপাশ থেকে বিল্টু মূর্তিমান আতংক হিসাবে হাজির হয় আরও কয়েকটা সমবয়সী ছোকরা সহ। এলোপাথাড়ি পেটাতে শুরু করে। মুহূর্তেই অরও অনেক লোক জড় হয়ে যায়।
এক মুরুব্বী বললেন, এদের জন্য কলোনির পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। পুলিশে দিলে তো আবার পুলিশ ছেড়ে দেয়। দুদিন বাদে ফিরে আসে। ভালো করে পেটাও। হাড্ডি গুড্ডি ভেঙে দাও।
অতি উৎসাহী কিছু ছেলে কাঁচি এনে ওর চুল কেটে দেয়। মুখে কালি মেখে দেয়।
আর এত মার মেরেছে যে রাতে ওর জ্বর চলে এসেছিল। তিন দিন বেহুঁশের মত পড়ে ছিল। হাটতে পারেনি কয়েকদিন। এই ঘটনার পর আজিমপুর কলোনি ছেড়ে বাইরে ছিল বেশ কিছুদিন। তারপর আবার এসে ডেরা বাধে ১৭০ নং বিল্ডিঙয়ের সিঁড়ি ঘরে।
বিল্ডিঙয়ের পেছনে ওরা চুলা বানিয়ে নিয়েছে। সেখানেই রান্না বান্না করে সবাই। কলোনির পুকুরে গোসল। মাঠে, ঝোপ ঝাড়ে, গাছে কাপড় চোপড় নাড়ে ওরা। রারো তেরোজন বিভিন্ন বয়সের মেয়েরা থাকে সেখানে। দু একজনের স্বামী আছে। স্বামীগুলো কিছুদিন থাকে একসাথে, বাচ্চা হয়, তারপর এই স্বামীদের অধিকাংশদেরই খুঁজে পাওয়া যায় না। কারও স্বামী আগেই পালিয়েছে বলেই তারা এখানে। মাঝে মধ্যেই বাচ্চারা বড় হতে হতে ওদের বাপ বদল হতে দেখে। আবার কেউ কেউ বাচ্চা লালন পালন করতে পারবে না দেখে ফেলে দেয় ভ্রূণ। মেরে ডাস্টবিন বা পুকুরে ফেলে দেয় সদ্য প্রসূত অনাকাঙ্খিত সন্তানও।
এখানে থেকেই মরজিনা দেখেছে জীবনের পালা বদল। জীবনের আলো যেমন জ্বলতে দেখেছে সে, তেমনি দেখেছে জীবনের নিভে যাওয়া তিলে তিলে। এই ভাসমান জীবনে ও দেখেছে বৃদ্ধা সুখমন বেওয়া কি এক অসুখে মারা গেল গত শীতে অনেক ভুগে ভুগে। ওরা সবাই মিলে কলোনি থেকে চাঁদা তুলে কবর দিল।
এক প্রবল বৃষ্টির রাত। ঝড়ের শব্দে মরজিনার ঘুম আসছে না। মরজিনা ল্য করল বিল্ডিঙয়ের গেট দিয়ে লালু লেংড়াতে লেংড়াতে ভিজে চপচপে হয়ে ঢুকল। মরজিনার খুব মায়া হল ওকে দেখে। সে নিজের গামছা এগিয়ে দেয়। লালু কোন রকমভাবে গা মুছে দেয়ালে হেলান দিয়ে মেঝেতে বসে পড়ে। কি মনে করে মরজিনা এগিয়ে যায় লালুর দিকে। ইশারায় বুঝানোর চেষ্টা করে –
– মাথা শরীর তো কিছুই ঠিকমত মুছলানা তুমি!
লালু ওর দিকে মুখ তুলে চায়। মরজিনা গামছাটা লালুর হাত থেকে নিয়ে নিজেই ওর মাথা,শরীর মুছিয়ে দেয়।
লালু ওর চোখের দিকে তাকায়, কি যেন খুঁজে।
মরজিনার ভেতরটা কেঁপে ওঠে। খুব ইচ্ছা করে ওর লালুর মাথাটা বুকে চেপে ধরে রাখতে। বুকের মধ্যে হাহাকার করে ওঠে। মানুষটার জন্য বুকের মধ্যে এক ধরনের শূন্যতা অনুভব হয়। ওদের কারোই চাল চুলো কিছু নেই আর ওরা যে প্রতিবন্ধী সেকথা ওর মনে থাকে না। পরের রাতেও লালু আসে এই বিল্ডিঙয়ের সিঁড়িঘরে ঘুমাতে। মরজিনা ওকে দেখে খুশি হয়ে ওঠে। চোখে মুখে আনন্দের ঝিলিক দেয় ওর।
ও লালুকে ইশারায় জিজ্ঞাসা করে, খাওয়া দাওয়া করেছে কিনা?
লালু চুপচাপ।
মরজিনা তার পোটলা থেকে একটা পাউরুটি বের করে তুলে দেয় লালুর মুখে।
লালু মানা করে না। খেয়ে নেয় পাউরুটিটা।
লালু মরজিনার চোখে চোখ রাখে। লালুর চোখ ভিজে আসে। কেউ ওকে এমন মায়া করেনিতো কখনো।
মরজিনা ওর পাশে এসে বসে। চুলে হাত বুলিয়ে দেয়। তারপর লালুর বুকে আস্তে করে মাথাটা রাখে। মরজিনার চোখ বেয়ে অঝোর ধারায় জল গড়িয়ে পড়ে। লালুও শিশুর মত ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করে।
মরজিনার মনে হয় লালু ওর জীবনের শেষ আশ্রয়।
আর লালু ভাবে মরজিনা যদি এমন করে সারাটা জীবন ওর বুকে মাথা দিয়ে রাখত।
এরপর প্রতি রাতেই ওরা মিলিত হয়। ভালোবাসার চাষবাস করে। পরস্পরের নিবিড় স্পর্শে কেঁপে কেঁপে ওঠে ওদের শরীর।
এক রাতে ১৭০ নং বিল্ডিঙয়ের তিন তলার বাসিন্দা রেজা অফিসের কাজ সেরে ফিরতে দেরি করে। গেট দিয়ে বিল্ডিঙয়ে ঢুকতেই লালু আর মরজিনাকে খুব ঘনিষ্ঠ অবস্থায় আবিষ্কার করে। সে বাসায় ঢুকে লাঠি নিয়ে এসে ওদের প্রচণ্ড পেটায়। পেটাতে পেটাতে রক্ত বের করে দেয়। আরও অনেক মানুষ জড় হয়ে যায়। ওদের পেটাতেই থাকে। লালু প্রতিবাদ করেনা। মরজিনাও কিছু বলে না। শুধু দুজন দুজনের দিকে অশ্রু সজল চোখে তাকিয়ে থাকে।
পরের দিন রেজা কলোনির মুরুব্বীদের ডেকে বিচার বসায়। দোকানদার জব্বার মিয়াকে ডেকে আনে বিচারে। রেজা বলে
– লালু পাগল না। পাগলের ভান ধরে থাকে। ওর সব বোধ শক্তিই আছে। বিড়ি খায়। সবাই যে টাকা পয়সা দেয় তা দিয়া আকাম করে বেশ্যার সাথে। কাল রাতে যেই ছেমড়ির সাথে কুকাম করছে তারে তো আগেও কয়েকবার ধরা হইছিল কুকামের সময়।
কলোনির মুরুব্বী সোহেলের আব্বা হান্নান সাহেব দোকানদার জব্বার মিয়াঁর উদ্দেশে বলেন –
-লালুরে তুমি আর খাবার দিতে পারবা না। ও চরিত্রহীন। মাগিগো লগে রাইত কাটায়।
হান্নান সাহেব উত্তেজিত হয়ে চেয়ার থেকে উঠে চিৎকার করতে থাকেন।–
-এই দুইটারে আজিমপুর কলোনিতে ফের আবার দেখলে খবর আছে কইলাম। জানেই মাইরা হালামু।
অর্ণব বয়সে তরুণ। ১৭০ নং বিল্ডিঙয়ের দুই তলার বাসিন্দা সে। ইউনিভার্সিটিতে পড়ে। সে প্রতিবাদ করে-
-লালু পাগলা লুলা। হয়ত একটা ভুল কইরাই ফালাইছে। আর ওর কি শরীরের চাহিদা থাকতে পারে না?
ও একটু থামে। তারপর বলে –
এইভাবে লালুকে বের করে দেওয়া কি ঠিক হইতেছে? আর মরজিনা মেয়েটা বোবা, কুজা। ওদের এইভাবে মারাটাও ঠিক হয় নাই।
হান্নান সাহেব বিরক্ত কণ্ঠে বলেন-
-বাবা তুমি চুপ থাকো। কলোনির পরিবেশ ঠিক রাখার স্বার্থে এদের আর কলোনিতে থাকতে দেওয়া যাবে না।
তিনি বলে চলেন –
-কলোনির পরিবেশ একেবারে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এদেরকে এবার পুলিশের উপরের কর্মকর্তাদের বলে থানায় সোপর্দ করে দেব। যাতে সহজে না বের হতে পারে।
এরপর লালু বা মরজিনা কাউকেই আর আজিমপুর কলোনিতে কনোই দেখা যায়নি। শেকড়হীন জীবনে হয়ত অন্য কোথাও কচুরিপানার মত ভাসতে ভাসতে চলে গেছে। জীবন নদীর উজান বেয়ে অন্য কোনো স্থানে জীবনকে থিতু করতে পেরেছিল বা পারেনি তারা। কে জানে? বা কে সেই খবর রাখে?

Leave a comment

Advertisement Rupalialo Ads
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement
Advertisement

বিনোদনের সর্বশেষ খবর

টেলিভিশন4 hours ago

নতুন ধারাবাহিকে কল্যাণ কোরাইয়া

নির্মাতা সুমন আনোয়ারের নতুন ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন সুঅভিনেতা কল্যাণ কোরাইয়া। বৈচিত্র্যময় চরিত্র রূপায়নের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে দর্শকের আসনে পাকাপোক্ত...

টেলিভিশন6 hours ago

তানভীর মাসুদের ‘আয়না আদল’

নূরুল আলম তৌফিক এর রচনায় ও প্রীতম দ্বীপের পরিচালনায় নির্মিত হয়েছে ‘আয়না আদল’ নামক একটি খণ্ড নাটক। এ সপ্তাহে নাটকটির...

মিউজিক ভিডিও দ্বিধা দন্দ মডেল : জায়েদ খান এবং সাইমা রুশা মিউজিক ভিডিও দ্বিধা দন্দ মডেল : জায়েদ খান এবং সাইমা রুশা
সঙ্গীত6 days ago

মুক্তি পেল জায়েদ খানের নতুন মিউজিক ভিডিও দ্বিধা দন্দ ( ভিডিও সহ )

মুক্তি পেল জায়েদ খানের নতুন মিউজিক ভিডিও দ্বিধা দন্দ সঙ্গীত মিউজিকের ব্যনারে ।সিলেটের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী জায়েদ খান পেশায় ডাক্তার...

পূর্ণ ব্যান্ড নিয়ে আসছেন তামান্না জেসমিন পূর্ণ ব্যান্ড নিয়ে আসছেন তামান্না জেসমিন
সঙ্গীত2 weeks ago

`পূর্ণ’ ব্যান্ড নিয়ে আসছেন তামান্না জেসমিন

`পূর্ণ’ ব্যান্ড নিয়ে আসছেন তামান্না জেসমিন শুদ্ধ সঙ্গীতের শূন্যতা যাদের মনে পীড়া দেয় তাদের কাছে এক ধরনের পূর্ণতা নিয়ে আসছেন...

গ্লিটজ2 weeks ago

নতুন দুটি শর্ট ফিল্ম

আল আমিন এইচ রুবেল অভিনয় শিল্পী হিসেবে বিশেষ পরিরচিত। অভিনয় করেছেন মাহফুজ আহমেদ , আপন রানা , নাসিম সাহনিকসহ বেশকিছু...

অভিনয় পাগল তসলিম হাসান হৃদয় অভিনয় পাগল তসলিম হাসান হৃদয়
ফিচার3 weeks ago

অভিনয় পাগল তসলিম হাসান হৃদয়

অভিনয় পাগল তসলিম হাসান হৃদয় এস কে দোয়েল অভিনয় তার নেশা-পেশা। হাসাইতে হাসাইতে হার্টবিট বাড়িয়ে দেয় দর্শকদের। কাজ করেন চট্টগ্রামে...

tamanna-bhatia-bahubali. tamanna-bhatia-bahubali.
বলিউড4 weeks ago

তৈরি হচ্ছেন তামান্না

চরিত্রের চাহিদা মেটাতে নিজেকে নানান ভাবে ভাঙ্গেন গড়েন তারকারা। তবে নিজেকে প্রস্তুত করতে এবার সুদুর ফ্রান্সে পাড়ি জমিয়েছেন দক্ষিণের সুন্দরী...

শ্রাবণী পুষ্প। ছবি : সংগৃহীত শ্রাবণী পুষ্প। ছবি : সংগৃহীত
সঙ্গীত4 weeks ago

পুষ্পর সোনা জাদুরে

সময়ের অন্যতম মডেল-অভিনেত্রী শ্রাবণী পুষ্প। সম্প্রতি কাজ করেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সন্দীপনের গাওয়া ‘সোনা জাদুরে’ শিরোনামের একটি গানের মিউজিক ভিডিওতে। এই...

Advertisement

সর্বাধিক পঠিত