fbpx
Connect with us

রূপালী আলো

মা আমার শ্রাবণের আকাশ | মুনীর আহমেদ সাহাবুদ্দিন -এর ধারাবাহিক উপন্যাস | পর্ব -০৫

Published

on

মা আমার শ্রাবণের আকাশ |

গত সংখ্যার পর

মা আমার শ্রাবণের আকাশ | মুনীর আহমেদ সাহাবুদ্দিন -এর ধারাবাহিক উপন্যাস | পর্ব -০৫

প্রায় এক মাস পর, রাজন তখন বরিশাল। সেদিন শুক্রবারবাবার সাথে তার দুই ছেলে রাজন আর সাবির গোরস্থান মসজিদে নামাজ পরলোমার কবর জিয়ারত করলো দুই ভাইওদের বাবা কবরের কাছে যাননিতিনি তার স্ত্রীকে কবর দেবার পর আর কখনো তার কবর দেখতে যাননিতবে তিনি ইচ্ছা পোষণ করেছেন শেষ একবার ওনার স্ত্রীর কবরের পাশে যাবেনশেষবার এবং চিরস্থায়ীমৃত্যুর পর তিনি তার স্ত্রীর পাশে তার নিজের কবরের ব্যবস্থা করতে চেয়েছেনতার ভাগ্য ভালোঅনেক কষ্টেঅনেক দাম দিয়ে তার স্ত্রীর পাশের কবরের ঠিক পাশের জায়গাটি পেয়েছেন তিনি|

শুক্রবার দিনটি সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজনের বাবা বাসায় থাকেনপরিবারের সাথে সময় কাটান| সব ওয়াক্তের নামাজ মসজিদে গিয়ে পড়েনআজকে আসরের নামাজ শেষে বাসায় এসে তিনি গান শুনছিলেনরাজন ওর বাচ্চাসুলভ ছটফটে বাবাকে খুব একটা গান শুনতে দেখেনিওর বাবা হাসির নাটককার্টুনএইসব খুব পছন্দ করতেনমাঝে মাঝে মার সাথে টিভিতে আবেগী নাটক-সিনেমাও দেখতেন|

রাজন আর সুমি টিভি দেখছিলোটের পেল ওর বাবা জগন্ময় মিত্রের পুরোনো গান শুনছেন নয়নও নয়ন মেলিকেন সে গেলো চলি’, ‘বৃষ্টি যখন রোদন করেমনের মুকুর গুমরে মরেরাজনের খারাপ লাগছে বাবার জন্যএরকম হাসিখুশি ওর বাবাসব সময় মজা করার মানুষচুপসে যাওয়া বেলুনের মত সিটিয়ে পড়েছেবাবার মত এরকম অনেকটা আনমনা হয়ে পড়েছে সাবিরওরাজন আর সুমি একটু ব্যতিক্রম| ওরা বুকে চেপে রাখতে পারে কষ্টবুঝতে পারে না কেউ|

রাজন বাবার ঘরের দরজায় টোকা দিয়ে ভিতরে ঢুকলোবাবা বিছানার উপরে বসাএখনো নামজের পায়জামা পরাবদল করেননিগায়ে একটা সাদা ঢোলা টি-শার্টমোবাইলে কি যেন করছিলেনরাজনকে দেখে মোবাইল থেকে চোখ উঠিয়ে বললো কি রাজনআয় বিছানায় বস|’ তিনি গান বন্ধ করে দিলেন|

রাজন বললো বাবা গোডাউনের কি খবর?’

বাজার রোডে ভাড়া পেয়ে গেছিঅনেক স্পেসআজ অ্যাডভান্স ভাড়া দিয়ে আসব

আমি জায়গাটা চিনিফারুকের ফার্মেসী থেকে একটু দুরে| তুমি কখন যাবা?’ রাজন জানতে চাইল|

মাগরিবের পরগোডাউনে মিলাদ আর কিছু দই-মিস্টির ব্যবস্থ্যা করেছে ওয়াহাবআসতে পারবি?’

আজকেই করবা! … ঠিক আছে বাবাইনশাআল্লাহ যাব

মতিফারুকরিয়াজদেরকে নিয়ে আসিসকমলকৃষ্ণকেও বলিস

রাজন বাবার রাম থেকে বের হয়ে হয়ে সুমির কাছে গেলো| সুমি আর নিহার ফুপু একই বেডরুমে থাকেনওদের আলাদা দুটি বেডওদের রুমের ড্রেসিং টেবিলটা বেশ বড়আয়নাতে আপাদমস্তক দেখা যায়সাবির ওর ভাষার স্মার্ট আয়না বলে| বাইরে যাবার আগে ও ড্রেস চেক করে এই আয়নায়আজ খেলতে যাওয়ার আগে ট্রাক স্যুটকেডস পরে নিজেকে চেক করছিলো|

রাজন ঢুকলো রুমেসাবির বললো ভাইয়া নীল ট্রাক স্যুটে ফাটাফাটি লাগছে না আমাকে?’ ওর কাঁধে ব্যাগভিতরে জার্সিশর্টতোয়ালেঅতিরিক্ত অন্তর্বাস,ইত্যাদিএক বোতল পানি আর একটা ডিউড্রান্টও আছেওর একটা চেকলিস্ট আছেসুমি তৈরী করে দিয়েছেউপরের সব আইটেম ওই চেকলিস্টে লিখা|চেকলিস্টের সবার নিচে সাবির নিজের হাতে আরো একটা আইটেম সংযোজন করে লিখেছে ১০০ টাকা’|  ওর হাতে ফিতা-বাঁধা একজোড়া ফুটবল বুটদুই পায়ের দুই রঙের বুটতাই দেখে হাসলো রাজনওয়ার্ল্ড কাপ ফুটবলে এরকম দেখেছেএমনকি গোলকিপারের দুইহাতে দুইরকম গ্লাভসও দেখেছেসাবির মাথায় ক্যাপ পড়তে পড়তে বের হয়ে গেলোসুমি জোরগলায় বলে উঠলো এই সাবির বলে যাবি না! সন্ধ্যার আগে বাসায় ফিরবি কিন্তু’| আগে এরকম ওর মা বলতোএখন বলে সুমি! সাবির সুমির কথায় পিছনে তাকালো নাশুধু ডান হাত একটু তুলে চলে গেলো|

রাজন ফুপুকে বললো ফুপু আমি বাইরে যাবরাতে খাবো না|’

কেনকোথায় খাবি?’

বাবার গোডাউনে

ওখানে তো দই মিষ্টি

মতি বলেছে একটু রাত হলে প্যাকেট বিরিয়ানি নিয়ে যাবেও একটা বড়ো কাজ পেয়েছে। আমাদের ট্রিট করবে| রাতে আমরা বন্ধুরাবাবা আর ওয়াহাব চাচা খাবো

রাজন বের হয়ে এলোদোতলায় যাবার পথে সিঁড়িতে দেখা হলো শিউলীর সাথেবুকে চেপে ধরা একটা বই আর খাতাএকটু হাঁপাতে হাঁপাতে বললো রাজন ভাইয়া ফিজিক্স পড়ব|’

আমি তো বাইরে যাব এখনকাল সকালে পড়াবদশটায় আসো

এখনি যাবা?’

রাজন একটু ভেবে বললো আধা ঘন্টা সময় দিতে পারব আজহবে?’

তোমার রুমে পড়বআমি সুমি আপুকে বলে আসছি

শিউলীদের জন্ম থেকে রাজনদের পরিবারের পরিচয় অনেক আগে থেকেই| শিউলীর জন্মেরও অনেক আগে| এই দুই পরিবারের সম্প্রীতি অনেক ভালোরাজনের মা মারা যাবার পর শিউলীর মা ‘নীলা খালা’ উন্মাদিনীর মত কেঁদেছিলেন| আপন ছোট বোনের মত ভেঙ্গে পরেছিলেন| ওর মার কিছুটা ছোট শিউলীর মা|বন্ধুর মত থাকতেন দুজনেবিয়ের পরে শিউলীর মা সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখতেন রাজনের মাকে সাথে নিয়েশিউলীর একটা বড় বোন আছে রুবি’|শিউলীর পাঁচ বছরের বড়অটিস্টিককিন্তু দেখলে ওকে বুঝা যায় না ওর প্রতিবন্ধকতাওদের দুই পরিবারের সন্তানেরা সবাই তুমি’ করে বলে সবাইকে|

সুমিকে বলে উপরে আসতে শিউলীর দুই তিন মিনিট লাগার কথাঠিক দশ মিনিট পরে আসলোরাজন ওর পড়ার টেবিলের খালি একটা চেয়ার দেখিয়ে বললবসোদেরী করেছদশ মিনিট তোমার কোটা থেকে কাটা হবে’| বলে রাজন হাসলো|

আজকে অসুবিধা নাই

স্মার্ট আয়নার সামনে ছিলা নাকি?’ শিউলী জানে সুমির রুমের আপাদমস্তক আয়নাকে স্মার্ট আয়না’ বলা হয়লাজুক গলায় বললো চুল ঠিক করছিলামতুমি কি করে বুঝলা?’

তখন তো চোখে কাজল দেখি নাইএখন দেখছিকিন্তু…. চুল যা ছিলো তো তাই|’

না… সিথি সোজা ছিলো না|’

এখন কি সোজা?’ শিউলী জানতে চাইলো।

হ্যা! বলে মাথা নিচু করে সিথি বরাবর একটা আঙ্গুল চালিয়ে দেখালো|

না এখনো সোজা নাআমাদের কারো মাথা ফ্লাট নাএই কারণে সিথি সোজা হবার কথা না|’

রাজন ভাইয়াআমি তোমার কাছে ফিজিক্স পড়তে এসেছিজ্যামিতি না|’

আচ্ছা দেখি কি পড়বা

না আজ থাকএত টেনসনে পড়তে ভালো লাগে নাকাল দশটায় আসবো

শিউলী হাসলোউজ্জল শ্যামলা মিস্টি মেয়ে, আরো মিষ্টি ওর হাসিহাসলে বামগালে গভীর একটা টোল পড়েনাকের বাম দিকে একটা নাকফুল পড়েছেজানালা বেয়ে এক চিলতে রোদ ওর নাকফুলের উপর পরে ঝিলিক ঝিলিক করে উঠছেক্লাস টু-থ্রি থেকেই শিউলী রাজনের খুব ভক্ত শিউলীওর খুব ছোটবেলায় একদিন বাসায় এসে রাজনের মাকে জিজ্ঞাসা করেছিলো রাদন ভাইয়া বাতায় আতে?’

কেন রে?’ সুমির মা জানতে চাইল|

আমাকে আজকে ও তো পুরপুরির দল্পের বই দিবে|’

পুরপুরি কি মা?’ রাজনের মা জানতে চাইল

ছোট সুমি সেটা জানতোহাসতে হাসতে জবাব দিলো পুরপুরি মানে ফুলপরী মা, ফুলপরী….

ও আচ্ছারাজন বলেছে নাকি?’

হ্যা বলতে না! এখনো দেয় নাই তো’ শিউলীর দৃঢ় জবাব|

আর একবার, ওর যখন ছয়-সাত বছর একদিন ও রাজনের রুমে গেলোরাজন তখন কিশোররাজন একটা শহীদ মিনার কমিটি করেছেওটার ফুল সংগ্রহের দায়িত্ব শিউলী আর সাবিরেরসুমির কাছে প্রস্তাব আর দায়িত্ব শুনে শিউলীর আনন্দ আর ধরে নাএত বড় একটা কাজ পেয়েছে! আনন্দে আটখানা হয়ে রাজনের কাছে গেলোওর বিছানায় গিয়ে আসন করে বসলোআটসাট বসে রাজনের কাছে একটা বালিশ চাইল|

বালিশ দিয়ে কি করবা শিউলী?’

আহারে… এলার্ম দিবো

বালিশে এলার্ম দেয়া যায় বুঝি?’

ধুত্তোরি’ একটু বড়বড় ভাব দেখালো শিউলীবলে নিজেই একটা বালিশ নিয়ে পিঠে হেলান দিয়ে বসলোশিউলী তখন হেলানকে এলার্ম’ বলতো|

ঘড়ির এলার্ম না রাজন ভাইয়াবালিশের এলার্ম

ছোটবেলা থেকে রাজন কম কথা বলে আর একটু গম্ভীরকিন্তু শিউলীর এই কান্ড দেখে জোরে হেসে উঠলওর মা আশেপাশেই ছিলেনতিনি হাসির শব্দে চলে এলেনমাকে দেখে রাজন বললো মা দেখোশিউলী বালিশে এলার্ম দিয়েছে|’

শিউলী রাগ করে বালিশটা রাজনের দিকে ছুড়ে চলে গেলোরাগ করে বললো কাল শহীদ মিনারের ফুল আনতে পারব না’| অথচ এর পরদিন একুশে ফেব্রুয়ারী ও সাবিরকে নিয়ে অনেক ফুল যোগাড় করেছিলোএকটা লাল জবাফুল রাজনের পড়ার টেবিলে রেখে বলেছিলো রাজন ভাইয়া এটা তোমার টেবিলে রেখে দিয়োসুমি আপু গ্লাসে পানি দিবেপানিতে রেখে দিলে অনেক দিন থাকে|’ শিউলী চলে গেলে রাজন ফুলটা ওর দোতলার জানালা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলো|জবাফুল ওর ভালো লাগতো নাওই ফুলের শুর থাকেএই জন্যশিউলী পরদিন ওই ফুলটা কুড়িয়ে নিয়ে রাজনের রুমে ওকে জিজ্ঞাসা করলো রাজন ভাইয়া,আমার ফুলটা কই?’

মনে হয় পড়ে গেছে’ মিথ্যা বললো রাজন

শিউলী তাই বিশ্বাস করলোও বললো পেয়েছি আমিতোমার জানালার নিচে মাটিতে ছিলোকিন্তু এটা শুকিয়ে গেছেপরে আবার নতুন একটা দিব

না- শিউলী না! জবাফুল না আঁতকে উঠলো রাজন!

তাহলে কি ফুল?’

হুমমম… শিউলী ফুল দিও|’

সেই শিউলী আজ অনেক বড় মেয়েনভেম্বরের ছয় তারিখ সতের হবে| রাজনের প্রতি এইসব ছোট ছোট অনুভুতি ডালপালা মেলে আজ ভালবাসার পূর্ণাঙ্গ রূপ নিতে যাচ্ছেমিস্টি এই মেয়েটি ভাবতোও একদিন ওর রাজন ভাইয়াকে বলবে ওর দেয়া রূপকথার গল্পের বইর মত একদিন ফুলপরী’ বলে ডাকতেকিন্তু ওর রাজন ভাইয়া ওকে আজও বুঝতে পারেনিভালবাসার লাল গোলাপের সব পাপড়ি একটু একটু করে ফুটে উঠছে ওর প্রিয় মানুষ রাজন ভাইয়ার জন্য|শিউলী ওর রাজন ভাইয়ার সাথে এই সুবাস ভাগাভাগি করতে চায়ও ভাবছে সুমি আপুকে একদিন বলবেওর মনে আছে ওর কিশোরীবেলায় সুমি আপু মজা করে বলতো শিউলী তোমার সাথে যদি রাজন ভাইয়ার বিয়ে হয় তাহলে আমি তোমাকে ভাবী বলতে পারব নাআর আমাকে নাম ধরেও ডাকতে পারবা না!”

লজ্জার বদলে ও একটু খুশি হতবলতো সুমি আপু তুমি আমার বড় না! তোমাকে ঠিকই আপু ডাকবআর আমাকে সবসময় তুমি শিউলী বলবা

যাহোক, রাজনের কাছে শিউলীর ঐদিন পড়া হলো না| ও রাজনকে বললো আমি কাল সকাল দশটায় আসবযতক্ষণ শেষ না হয় পড়ব

পড়াশুনা তোমার খুব প্রিয় নাকি?’

সব বিষয় নাকেমিস্ট্রি একদম ভালো লাগে নাকিসব ফর্মুলা! একদম মনে থাকে না|’

কিছুটা অবসরে শিউলী রাজনকে জিজ্ঞাসা করলো রাজন ভাইয়া তুমি এত রাত পর্যন্ত জেগে থাক কেন?’

তুমি জানো কি করে?’

শিউলী জানালার পর্দা সরিয়ে আঙ্গুল দিয়ে ওর বাসার দোতলার একটা রুম দেখিয়ে বললো ওইটা আমার রুমতুমি জানো তো! ওখান থেকে তোমার রুমের আলো দেখা যায়

আর কখন আমার রুমের আলো দেখা যায় না?’ মজা করে জানতে চাইল রাজন|

কাল রাত বারোটা আঠার মিনিটে তুমি লাইট নিভিয়েছ

আচ্ছা! আমার একজন পাহারাদার আছে! দাঁড়াও আমি খালাকে কাল বলে দিবোতুমি না ঘুমিয়ে পাহারাদারি করো

ও হেসে বললো আমি জানি তুমি বলবা নাতুমি সবসময় এরকম ভয় দেখাও|’

কিছুটা থেমে শিউলী বললো তুমি কি বালামের গান পছন্দ করো?’

বালাম কে! ও আচ্ছা ব্যান্ডনা তো- খুব একটা শুনি না

কাল রাতে বালামের যে গানটি তুমি শুনছিলা ওটা আমার প্রিয় একটা গান

কোনটা শিউলীআমি মনে করতে পারছি না!

‘…একাকী মন আজ বিরহে… এই গানটা

ও হ্যা… ওটা কোনো একটা এফএম ব্যান্ডে হচ্ছিলোআমি জানি না কোন ব্যান্ডবেশ ভালো গান

রেডিও ভূমিতে গানটা হচ্ছিলো

তাই বুঝি! তুমি কি করে বুঝলা?’

আমিও একই সাথে টিউন করে বের করেছি|’

আচ্ছা! দারুন মজার তো!

মজার না! যখন গানটি হচ্ছিলোতোমার সাথে আমিও শুনছিলাম| আমি টের পেয়েছি, অথচ তুমি টের পাও নাই|’

মেয়েটার দিকে তাকালো রাজনস্পষ্টবাদী অথচ নির্মল আকাশের মত সরল এই মেয়েটাকে ও চেনে অনেক আগে থেকেআজ একটু বেশি করে চিনতে পারলো|ছোট শিউলী সময়ের সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে সতের বছরের মেয়ে এখনরাজন দেখলো ভরা পূর্নিমার আলোর মত নিস্পাপ হাসি দিয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকেযেন এই রাজন ওর অনেক দিনের পথ চলার সাথীশ্রাবনের আকাশের মেঘে ঢাকা একটি মিষ্টি শুকতারা অপয়া মেঘলা ভেলা থেকে একটু একটু সরে এসে রুপালি আলোর ছটায় হেসে উঠছে|

সামলে নিলো ও বুদ্ধিমান রাজন ভাবলো এই মেয়েটা এখনো বেশ ছোটএখন নয়ওর সাথে আকাশ আর শুকতারার ভাবটা আরো কিছুটা পরে করবে| হ্যা, অবশ্যই করবে| শিউলীর জন্মলগ্ন থেকে সৃষ্ঠি এই অপার ভালবাসাকে প্রত্যাখান তো দুরের কথা, ফিরিয়ে দেবার মতোও নয়| রাজনের মনে হলো এই শিউলীকে তার যেন খুব প্রয়োজন|

রাজন একটু গম্ভীর হবার ভান করলোবললো শিউলী এইসব গান শোনার অনেক সময় আছে তোমারপরীক্ষা দিয়ে নাও আগে

কোনটাএসএসসি নাকি এইচএসসি?’ শিউলীর সোজাসাপ্টা সরল প্রশ্ন|

অবাক হলো রাজনহৃদয়ে কিছু একটা টের পাচ্ছে ওমিষ্টি ফুলের মত এই মেয়েটার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলতে ইচ্ছা করলো এখন যাও শিউলীআমিও বের হবোকাল দশটায় এসো’| তাই বললো ওকিন্তু মাথায় হাত দিয়ে না|

শিউলী চলে গেলে রাজন জানালার ফাঁকা দিয়ে আসা সোনালী বিকেলের আলো গায়ে মেখে মেখে বুঝলো ভালোবাসার এই অনুভুতি ও কখনো আগে টের পায়নিমনে হলো শ্রাবনের আকাশের সব বৃষ্টি এইমাত্র ওর হৃদয়ের উঠোন তোলপাড় করে ভিজিয়ে দিয়ে গেলোচোখ বুঁজে মার মুখটা মনে করলো ও|আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো মাশ্রাবনের কান্না পার হয়ে আজ আকাশ ভরা ঝলমলে বিকেলের সোনালী আলো চারিদিকসবটাই তো তোমার আঁচলআর একটু বিছিয়ে দাও মাআমি তোমার আঁচলে সবচেয়ে সুন্দর একটা শিউলীফুল দিব! নিবে না মা!

(চলবে)

মন্তব্য করুন
Advertisement
Advertisement
অন্যান্য2 days ago

দেশিয় শিল্পীরা এখন চলচ্চিত্র দেখে না, ওদের বয়কট করুন (ভিডিওসহ) – শামীমুল ইসলাম শামীম

জয়া আহসান। ছবি : সংগৃহীত
বাংলা সিনেমা3 days ago

সার্কাস দেখাবেন জয়া আহসান!

ইথুন বাবু ও আসিফ আকবর। ছবি : সংগৃহীত
সুরের মূর্ছনা3 days ago

১২ বছর পর অভিমান ভেঙে একসঙ্গে ইথুন বাবু ও আসিফ আকবর

কুদ্দুস বয়াতি গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
অন্যান্য3 days ago

কুদ্দুস বয়াতি গুরুতর অসুস্থ

শাকিব খান ও শবনম বুবলী। ছবি : সংগৃহীত
বাংলা সিনেমা3 days ago

অপু বিশ্বাসের পর শবনম বুবলীকে নিয়ে চলচ্চিত্র প্রযোজনায় শাকিব খান

ছোটপর্দা4 days ago

ক্যাফে লাভ শর্ট ফিল্মে – মানতাসা

মুনমুন। ছবি: সংগৃহীত
তারকা গসিপ4 days ago

আমাকে সবাই অশ্লীল সময়ের নায়িকা বলে, বিষয়টি ঠিক না : মুনমুন

Udta Punjab ছবির দৃশ্যে আলিয়া ভাট। ছবি : সংগৃহীত
বলিউড4 days ago

এখন প্রেম করছেন, তাই অনেক দেরি করে বিয়ে করবেন

নিজেকে একজন ভালো অভিনয়শিল্পী হিসেবে দেখতে চান সেতু হায়দার
অন্যান্য4 days ago

‘ধোঁকা খেয়ে শক্ত হয়েছি’

মাত্র একমাস আগেই দ্বিতীয় বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে অভিনেত্রী শ্রাবন্তীর। এরমধ্যেই নাকি আবার নতুন প্রেমে মজেছেন তিনি
তারকা গসিপ4 days ago

আবারও প্রেমে পড়েছেন শ্রাবন্তী!

সোনিয়া খান। ছবি : ফেসবুক
অন্যান্য4 weeks ago

‘নায়িকা’ হলেন সোনিয়া খান

শাকিব খান ও রোদেলা জান্নাত। ছবি : ইউটিউভ
বাংলা সিনেমা4 weeks ago

শাকিব খান- রোদেলা জান্নাতের চুমুর দৃশ্য একদিনেই ভাইরাল (ভিডিও)

অন্যান্য2 days ago

দেশিয় শিল্পীরা এখন চলচ্চিত্র দেখে না, ওদের বয়কট করুন (ভিডিওসহ) – শামীমুল ইসলাম শামীম

কবি তুষার কবিরের জন্মদিন আজ
শুভ জন্মদিন3 weeks ago

কবি তুষার কবিরের জন্মদিন আজ

পায়েল মুখার্জি। ছবি : সংগৃহীত
সুরের মূর্ছনা4 weeks ago

খোলাবাহুতে বাংলাদেশ কাঁপাবেন পায়েল মুখার্জি

কথাসাহিত্যে কাব্যচন্দ্রিকা সাহিত্য পুরস্কার পাচ্ছেন প্রিন্স আশরাফ
বিবিধ4 weeks ago

কথাসাহিত্যে কাব্যচন্দ্রিকা সাহিত্য পুরস্কার পাচ্ছেন প্রিন্স আশরাফ

নিজেকে একজন ভালো অভিনয়শিল্পী হিসেবে দেখতে চান সেতু হায়দার
অন্যান্য4 days ago

‘ধোঁকা খেয়ে শক্ত হয়েছি’

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস!
সাহিত্য জগৎ1 week ago

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস! তামান্না জেসমিন।

দীপংকর দীপক
বইয়ের আলোচনা2 weeks ago

বইমেলায় দীপকের চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ ‘হে বঙ্গ’

মুনমুন। ছবি: সংগৃহীত
বাংলা সিনেমা4 weeks ago

আবারো বাংলা সিনেমায় মুনমুন

শাকিব খান ও রোদেলা জান্নাত। ছবি : ইউটিউভ
বাংলা সিনেমা4 weeks ago

শাকিব খান- রোদেলা জান্নাতের চুমুর দৃশ্য একদিনেই ভাইরাল (ভিডিও)

সোনিয়া খান। ছবি : ফেসবুক
অন্যান্য4 weeks ago

‘নায়িকা’ হলেন সোনিয়া খান

ইত্যাদিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী আকবরের নতুন গান
সুরের মূর্ছনা1 month ago

ইত্যাদিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী আকবরের নতুন গান

শাহরুখ-কন্যা সুহানা খান। ছবি : ইন্টারনেট
বলিউড1 month ago

পানির নীচে কার সঙ্গে শাহরুখ-কন্যা সুহানা! (ভিডিও)

গুলশান-বনানীর পারিবারিক জীবন নিয়ে শর্টফিল্ম 'অপরাধী'
অন্যান্য1 month ago

গুলশান-বনানীর পারিবারিক জীবন নিয়ে শর্টফিল্ম ‘অপরাধী’

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের মরুভূমিতে বন্যা। ছবি: সংগৃহীত
রূপালী আলো3 months ago

সৌদি আরবের মরুভূমিতে বন্যা! (ভিডিও)

বিয়ের প্রথম রাতে নারী-পুরুষ উভয়েই মনে রাখবেন যে বিষয়গুলো
রূপালী আলো4 months ago

বিয়ের প্রথম রাতে নারী-পুরুষ উভয়েই মনে রাখবেন যে বিষয়গুলো

আরমান আলিফ
রূপালী আলো4 months ago

সন্দেহ ডেকে আনে সর্বনাশ : আরমান আলিফ

সালমান শাহকে নিয়ে সেই গান প্রকাশ হল
রূপালী আলো6 months ago

সালমান শাহকে নিয়ে সেই গান প্রকাশ হল, পরীমনির প্রশংসা

পাকিস্তানের ক্যাপিটাল টিভি চ্যানেলে প্রচারিত টকশোর স্ক্রিনশট। ছবি: সংগৃহীত
রূপালী আলো6 months ago

সুইডেন নয়, পাকিস্তান এখন বাংলাদেশ হতে চায় (ভিডিও)

সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : বীরেন মুখার্জী
হেড অব মার্কেটিং : দীনবন্ধু রায়
প্রকাশক : রামশংকর দেবনাথ
বিভাস প্রকাশনা কর্তৃক ৬৮-৬৯ প্যারীদাস রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০ থেকে প্রকাশিত।
ফোন : +88 01687 064507
ই-মেইল : rupalialo24x7@gmail.com
© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রূপালীআলো.কম