fbpx
Connect with us

রূপালী আলো

প্রিন্স আশরাফ এর ‘আপনালয়’ শুধু আধুনিক নয়, অতি আধুনিক সাহিত্য নিদর্শন-গোলাম মোর্তুজা

Published

on

বৃদ্ধাশৃম নিয়ে প্রিন্স আশরাফ এর ব্যতিক্রমধমী উপন্যাস আপনালয়

আপনালয়
গোলাম মোর্তুজা
প্রভাষক (বাংলা)
মাসকাটাদীঘি স্কুল এন্ড কলেজ,
পবা,রাজশাহী-৬২১২
মোবাইল ঃ ০১৭১২৬২০০১২

আজ থেকে হাজার বছরেরও বেশি কাল আগে সূচিত হয়েছিল বাংলা সাহিত্যের পথচলা। এ দীর্ঘ সময়ে সাহিত্যের গতি ও প্রকৃতি সমানতালে অগ্রসরও হয়নি। আর হবেই বা কেন? হওয়ার কথাও নয়। মানুষ যুগস্রষ্টা নয়, মানুষের জন্যই যুগ সৃষ্টি হয়। আঠারো শতকের শেষার্ধে এবং ঊনবিংশ শতকের শুরুতে মানুষের মাঝে হানা দিল এক উন্মাদনা-এতে বাংলা সাহিত্যে এক নূতন রাগিণীর সূচনা ঘটলো। এ যুগের প্রতিভূ হলো গদ্য সাহিত্য। এ সময়ই ভক্তি,যুক্তি,সুফিবাদ,ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ,মানবতাবোধ, সমাজ সচেতনতা, রোমান্টিকতা, স্বদেশিকতা সবই আধুনিক সাহিত্যের উঠোনজুড়ে ঝলমল করলো।
প্রিন্স আশরাফ এর ‘আপনালয়’ শুধু আধুনিক নয়, অতি আধুনিক সাহিত্য নিদর্শন। এ উপন্যাসটি একটি পারিবারিক সামাজিক উপন্যাস। উপন্যাসের শুরুতেই চমতকারিত্বে ভরপুর। ‘রাত ৩ঃ৪৫ এ এম, ২ নভেম্বর,২০৪৬ সাল । মাঝরাতে ফোন এলেই বুক কেঁপে ওঠে মোহিতের। সুসংবাদের জন্য কেউ রাত পৌনে চারটেয় ফোন দেয় না।’ এ কাব্যিক বর্ণনার মাঝে বোঝা যায় লেখক কোনো বিষাদময় ঘটনার মাঝে প্রবেশ করছেন। আর সচেতন পাঠককেও খুব সহজে ঘটনার ঘনঘটায় ডুকিয়ে দিচ্ছেন। এটা সার্থক উপন্যাসের বৈশিষ্ট্য যা লেখক সততার সাথেই পালন করেছেন। উপন্যাস শুরুর পূর্বে লেখক বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর কবিতার চরণ দিয়ে ভাবনার খোরাক করে দিয়েছেন।
‘আপনালয়’-সময়ের দর্পণ। এক মহাকালের প্রতিচ্ছবি। সময়ের আলাপনে একটা সময়ে সবার মাঝে শুরু হয় ইন্দ্র দ্বন্দ। ওঠে না সেখানে ছন্দ। যৌথ পরিবার ভেঙে খানখান হয়। পরিবারের রসায়ন হয়ে যায় সংকুচিত। সারা নগর জুড়ে শুরু হয় যৌথ পরিবার ভাঙনের খেলা। সবাই যে যার মতো হয়ে যায় একা। যাত্রা শুরু হয় একক পরিবারের। সমস্ত মানব অনুভব করে এক নরম সুখের-জ্বালা! পিতা-মাতা হারা, সংসার ছাড়া একেক জন হয়ে যায় একেকটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপের নাগরিক। হঠাৎ এল এক কালো ‘ব্রিফকেস’। অজস্র ভাঙনের ঢেউয়ের মাঝে একটি ঢেউ বিপরীতমুখে যাবার প্রচেষ্টাই রত হল। যেখানে, যেই আধুনিক শহরে একক পরিবারের আঁধার আরো সবাইকে অন্ধকারে নিয়ে যাচ্ছে অবলীলায়, সেখানে যৌথ পরিবারের মহামায়া ধরা পড়ে তাও আবার সিসি টিভির ক্যামেরায়। এবং পরে তা ভাইরাল- অতঃপর সবাই আশ্চর্যের সীমায়। এ বিষয়টি উপন্যাসটিকে অভিনবত্ব দান করেছে। আর ঔপন্যাসিক হিসেবে প্রিন্স আশরাফকে তুলে দিয়েছে উচ্চমার্গে।
‘কিছু কিছু মৃত্যু পাখির পালকের মতো হালকা, কিছু কিছু মৃত্যু পবর্তসম ভারী। পুত্রের কাছে পিতার মৃত্যু পর্বতসম ভারী। বাবার লাশের খাটিয়া পর্বতের মতোই ভারী হতে থাকে তিন ভাইয়ের কাছে।’-এ চুম্বক লাইন-ই মনে হয় গোটা উপন্যাসটিকে ব্যপ্ত করে তুলেছে। মোহিত, লোহিত, রোহিত তিন ভাইয়ের মধ্যে ‘ব্রিফকেস’ নিয়ে উদ্বিগ্নতা এবং পরবর্তীতে মায়ের প্রতি যে ভালোবাসার রং তা পাঠককে বাস্তবতায় নিয়ে যায়। গোটা উপন্যাসটিতে ঘটনাকে ঠেলে নেবার প্রচেষ্টা উপন্যাসিক একটুও করেননি বরং ঘটনা তার নিজ স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে গেছে মোহনার খোঁজে।
‘ব্রিফকেস’-এ পাওয়া ছবির ব্যক্তি আর বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে রিপোর্ট তৈরির ব্যক্তি ‘শাহ কামাল’-এর ছবি একই-এ ঘটনা সন্তানগুলোকে ভাবিয়ে তুলেছে। ছেলেদের ভাষায় এটা একটি রহস্যময় ‘পাজল গেম’। রহস্যের মাঝে কাহিনির পাত্র-পাত্রিরা যতোটা না পড়েছে, তারচেয়ে ঢের বেশি পড়েছে পাঠকরা-এখানে লেখকের কম সার্থকতা নয়। লেখক যখন বলেন,‘স্বেচ্ছাশ্রমে বৃদ্ধদের সংগ দিচ্ছি। একটা জিনিস বুঝে গেছি বৃদ্ধদের যতটা না শারীরিক খিদে,অসুস্থতায় অসুবিধে তার চেয়ে অসুবিধে মনের খিদের।’ লেখকের এ কথা‘বাবার ডায়রি,২০১০ সাল’ হতে পাওয়া হলেও এ কথাগুলো যেন সমগ্র বৃদ্ধাশ্রমবাসীর। আহা! কী তাঁর বর্ণনা! কী তাঁর বাস্তবতার ছটা। এমন বর্ণনায় মন হয়ে যায় ভারাক্রান্ত। চোখ হয়ে যায় অবশ-যখম। লেখকের কথার তীরে বোদ্ধা পাঠক সত্যই বিদ্ধ। আবার লেখক যখন বলেন,‘পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা মায়ের কোল’-এ কথা সহজ কথা হলেও লেখকের এ কথার মাঝে কাহিনির সত্যতা মন ছুঁয়ে যায়। উপন্যাসে বাবার ডায়রির অন্তরালে সন্তানদের আচরণ পাঠককে এক ঘোরের মাঝে ফেলে দেয়। মায়ের অসুস্থতার মাঝে মৃতবাবার রেখে যাওয়া সম্পদের সন্ধানে সন্তানদের পরিকল্পনা একবারে বাস্তব বলেই হৃদয় প্রদেশে দাগ কেটে যায়।‘দলিল মর্টগেজ রেখে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়েছে কিনা কে জানে’-মোহিতের এমন কথায় বাবার প্রতি বিতৃষ্ণাবোধের যে চিত্র তা শ্বাশত বলেই পাঠক বোঝে সেই সে ভাষা।
‘তিন ভাই যথন বাবার আপনালয় পশ্চাদে রেখে বেরিয়ে আসছে তখন ওদের চোখে চিক চিক করছে অশ্রু। আনন্দাশ্রু।’ এ কথাগুলোর মাধ্যমে লেখক উপন্যাসের পরিসমাপ্তি টেনেছেন। বাবার গড়া বৃদ্ধাশ্রমকে তিন ভাই মিলে সহযোগীতা করার মনস্থির করে। পিতার ভালো কাজে ওরা আপ্লুত- আবেগিত-বিগলিত। পাঠক এখানে এস থমকে যায় চোখের তপ্ত জল পড়ে ধূলির এ ধরণীতে। লেখক ভাষা ব্যবহারে বেশ সচেতন। তবে ইংরেজি শব্দের প্রয়োগ সাধারণ পাঠককে চমকিত করলেও বানানে আরও যত্নবান হলে ভালো হতো। শব্দের শৃঙ্খলাবোধ, ভাষা প্রয়োগে পরিমিতিবোধ আর যতিচিহ্নের যথাযথ ব্যবহার ঔপন্যাসিক মোটামুটি সঠিকভাবে করেছেন বলেই মনে হয়। উপন্যাসটি লেখকের নিপুন মনীষার অন্তরালে স্নেহকাতর হৃদয় ছিল বলেই মনে হয়। সমাজ ও গার্হস্থ্যধর্মী উপন্যাসে বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যেমন সার্থক, শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যেমন অপরাজেয়, তেমনি ‘আপনালয়’ এর লেখক প্রিন্স আশরাফ সফল শতভাগ। পাঠকের মণিকোঠায় এ উপন্যাসটি থাকবে আজন্ম কাল ধরে এ সুন্দর মুহূর্তে প্রত্যাশা করতেই পারি।
বই পরিচিতি
নাম : আপনালয়
ধরণ : উপন্যাস
লেখক : প্রিন্স আশরাফ
প্রকাশক : তাহমিনা খানম
প্রধান নির্বাহী রোদ্দুর প্রকাশনী
প্রচ্ছদ : শতাব্দী জাহিদ
মূল্য : ২৫০ টাকা

মন্তব্য করুন
Continue Reading
Advertisement
Advertisement
ইত্যাদিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী আকবরের নতুন গান
রূপালী আলো6 months ago

ইত্যাদিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী আকবরের নতুন গান

শাহরুখ-কন্যা সুহানা খান। ছবি : ইন্টারনেট
রূপালী আলো6 months ago

পানির নীচে কার সঙ্গে শাহরুখ-কন্যা সুহানা! (ভিডিও)

গুলশান-বনানীর পারিবারিক জীবন নিয়ে শর্টফিল্ম 'অপরাধী'
রূপালী আলো6 months ago

গুলশান-বনানীর পারিবারিক জীবন নিয়ে শর্টফিল্ম ‘অপরাধী’

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের মরুভূমিতে বন্যা। ছবি: সংগৃহীত
রূপালী আলো8 months ago

সৌদি আরবের মরুভূমিতে বন্যা! (ভিডিও)

বিয়ের প্রথম রাতে নারী-পুরুষ উভয়েই মনে রাখবেন যে বিষয়গুলো
রূপালী আলো8 months ago

বিয়ের প্রথম রাতে নারী-পুরুষ উভয়েই মনে রাখবেন যে বিষয়গুলো

আরমান আলিফ
রূপালী আলো9 months ago

সন্দেহ ডেকে আনে সর্বনাশ : আরমান আলিফ

সালমান শাহকে নিয়ে সেই গান প্রকাশ হল
রূপালী আলো11 months ago

সালমান শাহকে নিয়ে সেই গান প্রকাশ হল, পরীমনির প্রশংসা

পাকিস্তানের ক্যাপিটাল টিভি চ্যানেলে প্রচারিত টকশোর স্ক্রিনশট। ছবি: সংগৃহীত
রূপালী আলো11 months ago

সুইডেন নয়, পাকিস্তান এখন বাংলাদেশ হতে চায় (ভিডিও)

Drink coffee in a tank of thousands of Japanese carp in Saigon
রূপালী আলো11 months ago

যে রেস্টুরেন্টে আপনার পা নিরাপদ নয় (ভিডিওটি ২ কোটি ভিউ হয়েছে)

ঘাউড়া মজিদ এখন ব্যবসায়ী
রূপালী আলো11 months ago

‘ঘাউড়া মজিদ এখন ব্যবসায়ী’ (ভিডিও দেখুন আর হাসুন)

সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : বীরেন মুখার্জী
হেড অব মার্কেটিং : দীনবন্ধু রায়
প্রকাশক : রামশংকর দেবনাথ
বিভাস প্রকাশনা কর্তৃক ৬৮-৬৯ প্যারীদাস রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০ থেকে প্রকাশিত।
ফোন : +88 01687 064507
ই-মেইল : rupalialo24x7@gmail.com
© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রূপালীআলো.কম